প্রতিবাদকে কীভাবে চড়া সুরে নিবদ্ধ করতে হয়, ফের তা দেখিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মিছিলে মানুষের ঢল নামল। সপ্তাহের প্রথম দিন খানিকক্ষণের জন্য দুর্ভোগে পড়তে হল নিত্যযাত্রীদের। সে দুর্ভোগের সঙ্গে এ রাজ্য অবশ্য বহু যুগ ধরেই পরিচিত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপে আরও একবার রাজ্যের রাজনৈতিক ভরকেন্দ্রিকতা স্পষ্ট হল। মোদী সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় বাম এবং কংগ্রেসও প্রতিবাদ-কর্মসূচি নিয়েছিল। কিন্তু সে প্রতিবাদ এতই ক্ষীণ যে, শ্রুতিগোচর হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলের সামনে খড়কুটোর মতোই উড়ে গেল বামেদের ডাকা বন্‌ধ। মানুষ বন্‌ধে সাড়া দেননি। শহর গতিশীলই ছিল। এবং বন্‌ধ রুখে দেওয়ার সাফল্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই।  
জনসংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন, তত্ত্ব-আওড়ানো রাজনীতির এই হালই হয় ! মানুষ এখন রোজ ব্যাঙ্কমুখী, এটিএমের লাইনে। বাজার অধোগামী। তার মধ্যে বন্‌ধের ডাক রাজনৈতিক অদূরদর্শিতারই প্রমাণ। ধুঁকতে থাকা বাজার ফের কেন একদিন বাড়তি লোকসানের মুখ দেখতে যাবে ! মানুষ তাই বন্‌ধের আহ্বান সপাট প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাজনীতি করতে গেলে যে পথে নেমে বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজা জরুরি, তা বামেরা বিস্মৃত হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নিখাদ ছুটির দিনই উদ্‌যাপন করতে চেয়েছিল বামেরা ! কিন্তু, রাজ্যবাসীকে ছুটির মানসিকতা থেকে বার করে অানতে সমর্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল কংগ্রেসেরও। তবে, সমস্যা হল, প্রতিবাদ করে রাজনীতিতে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে গেলে আগে জনসমর্থন বিষয়ে নিশ্চিত হতে হয় ! জনসমর্থন এ রাজ্যে বাম বা কংগ্রেস নেতৃত্ব— কারওরই নেই। তাই তাঁরা সাধারণ মানুষের দাবি বা প্রতিবাদের রাজনৈতিক মুখ হয়ে উঠতে পারছেন না। সাবলীলভাবে সেটিই পেরেছেন এবং পারছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির রাজনীতিতে সক্রিয় মোদী-বিরোধিতার পাশাপাশি এ রাজ্যেও ঘনিয়ে তুলছেন প্রতিবাদের উত্তাপ। উত্তাপ ছড়িয়ে দিতে ভিন রাজ্যেও পাড়ি জমাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে তাঁর অনতিঅতীতের আন্দোলনমুখী ভাবমূর্তিটিরই ‘রেজারেকশন’ ঘটাতে চাইছেন। তাঁর সাফল্য তাঁরই কৃতিত্ব। তবে, বঙ্গীয় বাম এবং কংগ্রেসও আপনাপন ব্যর্থতায় মুখ্যমন্ত্রীকে সহায়তাই করছেন বইকী !