একটি দু’টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বারবার মাঝপথে শ্যুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়া, শ্যুটিং চলাকালীন অহেতুক হস্তক্ষেপ, দাদাগিরির অভিযোগ অন্যদিকে কলাকুশলীদের কাজের সময়, ছুটি ইত্যাদি প্রশ্নের রফাসূত্র খুঁজতে আজ মুখোমুখি বসতে চলেছেন ফেডরেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ন অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া এবং ইম্পার ( ইস্টার্ণ ইণ্ডিয়া মোশন পিকচার অ্যাসোশিয়েশান) শীর্ষ কর্তারা। 

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। গত বছরই শুভশ্রী অভিনীত জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘নবাব’-এর শ্যুটিং বিদেশে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দেব অভিনীত অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের ছবির শ্যুটিংও। অভিযোগ ছিল কলাকুশলী সংগঠনের দাদাগিরির। প্রযোজকদের কোনও দাবি মানতে চায়নি কলাকুশলীদের সংগঠন। এই নৈরাজ্য আটকাতে দীর্ঘ কাল কথা বলে কোনও লাভ হয়নি। এবার সেই বোঝাপড়াই কাগজে কলমে করে ফেলতে চায় দু’পক্ষই।

কি থাকছে এই মৌ চুক্তিতে? সূত্রের খবর, নিম্নলিখিত বিষয়গুলির ফয়সলা হতে চলেছে আজকের চুক্তির মাধ্যমে।

• বিদেশে এখন শ্যুটিং-এ ন্যূণতম ১৯ জন টেকনিশিয়নকে নিয়ে যেতে হয়। ইম্পা চায় এই সংখ্যাকে ১৬-এ নামিয়ে আনা হোক।

• আউটডোর শ্যুটিং-এর ক্ষেত্রে মাসের দ্বিতীয় রবিবারে ছুটি থাকবে কি থাকবে না, এই প্রশ্নে রফা খোঁজা হবে।

• আউটডোরে লোকেশান শ্যুটিং-এর জন্যে বরাদ্দ ৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে লাঞ্চটাইম এবং লোকেশনে পৌঁছনোর টাইমকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ফেডারেশন। কথা হবে এই নিয়েও।

মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সদ্যই মিটেছে সিরিয়াল সংক্রান্ত কাজিয়া। তবে প্রযোজক ও কলাকুশলীদের এই বিবাদ অবশ্য অনেক পুরনো। আপাতত এই বিবাদ মেটাতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

আজকের এই মৌ সফল ভাবে স্বাক্ষরিত হলে আদপে সুবিধে হবে প্রযোজকদের। অকারণ চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের যাঁতাকল, খরচ ছেঁটে ফেলতে পারলে লাভ বাংলা সিনেমার। সিনেমার বাজেট অর্থাৎ, প্রযোজকের লগ্নির পরিমাণ যত কমানো যায় ততই টাকা তোলার ঝুঁকি কমে। তাই সিনেমার মুখ চেয়েই আপাতত একটি সমন্বয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন সকলে।