জামাই ষষ্ঠীর দিন আমার হিংসে একেবারেই হয় না বরং নিজে খুব ভাল ফিল করি। একটা জোক মনে পড়ে গেল। রাবণ বলছে যে আমি তো শুধু রামের বউকে অপহরণ করেছিলাম কিন্তু এখন সবাই বিশ্বজুড়ে কোমর বেঁধে আমার গায়ে আগুন দেয় কেন? আসলে বাকি পুরুষেরা বলে তুই কেন রামের বউকে অপহরণ করলি শুধু, আমাদের বউদের কেন নিয়ে গেলি না। সেই ক্ষোভেই সবাই গায়ে আগুন দেয়.... হা হা হা। পরিচিত অনেককেই তো দেখেছি, বউ যখন থাকে না বাড়িতে বা বাপের বাড়ি যায় তখন বলে বাবা আজ বউ নেই, চলো আজ পার্টি করি। এতেই বোঝা যায় যে জামাই ষষ্ঠীর দিন তারা ঠিক কী ফিল করে আর কী। মুখে একটা প্লাস্টিক স্মাইল, হাতে ইলিশ মাছ। বউয়ের কথা অনুযায়ী চলতে হয়। আমার মাকে এটা বলবে, এটা করবে, হাসো, কাঁদো, এটা খাও, আমার মা রাগ করবে। সে সব দেখে তো আমি একদমই জেলাস ফিল করি না। বরং খুব আরামবোধ হয় যে আমার কোনও বাইন্ডিংস নেই। তবে কোনও না কোনও দিন তো জামাই হবে। তখন আমিও হয়তো ওরকম প্লাস্টিক স্মাইল দেব। কিন্তু যদি দেখি যে আমার শ্বশুর আমার বাবার মতো বা আমার শাশুড়ি আমার মায়ের মতো, তখন ডেফিনিটলি প্লাস্টিক স্মাইল দেব না বরং শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে আবদার করব। আর সেটা ঠিক জামাই ষষ্ঠী থাকবে না। যেমন একটা ছুটির দিন ফ্যামিলির সঙ্গে কাটাই, সেরকমই একটা দিন কাটাব। আমি সত্যিই চাই তেমন একটা কিছু হোক।  

আরও পড়ুন

শ্যুটিং শুরু মা কালীর পুজো দিয়ে প্রতিদিন, ৪০০ ছাড়াল ব্যতিক্রমী সিরিয়াল, দেখুন ভিডিও

বাংলা টেলিভিশনে পা রাখছেন দুই নতুন নায়িকা, দেখুন ভিডিও 

শাদি কা লাড্ডু বলে তো একটা কথা রয়েছে। একটু তো মনে হয় যে শ্বশুরবাড়ি থাকলে এই দিনটায় কী হতো, বা কী হতে পারত। আর জামাই ষষ্ঠীতে যেরকম আদর-আপ্যায়ন হয়, সেটা পেতে কে না চায়। মনে হয়, যদি থাকত, কী হতো। আমার শাশুড়ি কীভাবে আদর-আপ্যায়ন করত, সেটা তো ভাবতে ভাল লাগে। তবে আমিও শাশুড়ির জন্য খুব ভাল কিছু নিয়ে যেতাম। সারপ্রাইজ দিতে আমার বেশ ভাল লাগে। কিছু একটা করতাম যেটাতে শাশুড়ি খুব হ্যাপি হয়ে যেত। আমার ইচ্ছে, আমার শ্বশুরবাড়ি বেশ একটা জয়েন্ট ফ্যামিলি হবে। অনেক ভাইবোন থাকবে। অনেক মজা, হই-হুল্লোড়ে জমজমাট হবে। আর তেমন না হলে আমিই জমিয়ে দেব। সেই কনফিডেন্সটা আমার আছে। বেশ জমিয়ে খাব এবং পারলে ডিনারটাও সেরে ফিরব। আর এমনিতেই তো আমি এবছর ‘সোনার সংসার’-এ ‘সেরা জামাই’-এর অ্যাওয়ার্ডটা পেয়েছি। তবে আমার আরও একটা ইচ্ছে রয়েছে। ওইদিন শ্বশুর-শাশুড়িকে এবং শ্বশুরবাড়ির সবাইকে আমি আমার বাড়িতে ডাকব, যেহেতু ওটা আমার দিন, অর্থাৎ জামাইয়ের দিন। আমি যেটা ভাল রান্না করতে পারি, সেটা রেঁধে ওঁদেরক খাওয়াব। এটা আমার তরফ থেকে ওঁদেরকে দেওয়া উপহার হবে। 


জামাই ষষ্ঠীর দিন আমার আলাদা করে কিচ্ছু মনে হয় না। তবে চারপাশে দেখি সবাই খুব দায়িত্ব নিয়ে বাজার করছে। কোথায় একটু ভাল লিচু পাওয়া যাবে, কোথায় একটু কাঁঠাল পাওয়া যেব। এই অনুষ্ঠানটির প্রতি আমার খুব একটা আগ্রহ নেই। আগ্রহ যেটা রয়েছে সেটা খাওয়াদাওয়ার প্রতি। কেউ আমাকে সাজিয়ে গুছিয়ে খেতে দিক এটা বরাবরই আমার খুব প্রিয়। আমাকে কেউ আদর করে, বাবা-বাছা করে, পাখা সামনে ধরে যদি কেউ খেতে দেয়, ভীষণ ভাল লাগবে আমার। সেটা তাহলে প্রত্যেকদিনই আমার কাছে জামাই ষষ্ঠী। আমি সব রকম খেতে ভালবাসি। শুধু সেটা সুন্দর করে খেতে দিতে হবে। এমনকী আলুসেদ্ধ ভাত দিলেও আমার কোনও অসুবিধা নেই। তবে আমি এটা ঠিক করে রেখেছি যে, বউ ভাল রান্না না জানলেও চলবে, কিন্তু শাশুড়িকে ভাল রান্না জানতে হবে। আমি রীতিমতো শাশুড়িমায়ের ইন্টারভিউ নেব। আমি জানি না তিনি আমাকে কী কী প্রশ্ন করবেন, আমি তো তাঁকে জিজ্ঞেস করব যে আপনি ভাল রান্না জানেন তো? এরকম হবে না তো যে আপনার বাড়িতে গেলাম আর আপনি হোটেল থেকে খাবার আনিয়ে খাওয়ালেন। কী কী রান্না তিনি জানেন তার উপর ডিপেন্ড করছে আমি কতবার যাব শ্বশুরবাড়িতে আর কতটা ভালবাসব!  

ঠিক হিংসে হয় না। বন্ধুরা অনেকেই যায় দেখি, বাড়িতেও দিদি-জামাইবাবুরা আসে। আজকে তো সবাই এসেছে, জমজমাট একদম। ভাবি, কবে যাব জামাই সেজে শ্বশুরবাড়িতে। তার জন্য অপেক্ষা করে আছি বলা যায়। ইন ফ্যাক্ট মাকে কালই মজা করে বলছিলাম, মা এই বছরটাও গেল আর কী! মা তখন সান্ত্বনা দিচ্ছে আমাকে যে চিন্তা করিস না, নেক্সট ইয়ারে হয়ে যাবে আশা করি। দেখা যাক। আর বিয়ে তো হয়নি তাই ঠিক বলতে পারব না যে জামাই ষষ্ঠীতে শালিদের সঙ্গে কীরকম মজা হয়। তবে শালিদের সঙ্গে খুনসুটি হোক বা খাওয়াদাওয়া, জামাই ষষ্ঠীর পুরো ব্যাপারটাই দারুণ, আমার তো খুব এক্সাইটেড লাগে। আর আমি মাটন খেতে খুব ভালবাসি। শাশুড়ি যদি মাটনের যে কোনও পদ আমাকে রেঁধে খাওয়ায়, খুব ভাল লাগবে।