অফিসের কাজে এই মুহূর্তে আমেরিকায়। ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা পুরোটা দেখা সম্ভব হয়নি কাজের চাপে। তবে নিয়মিত চোখ রাখছিলাম ইন্টারনেটে।    
সত্যি বলতে, লর্ডসের বিশ্রী হারের পর বিরাট কোহলিদের এভাবে ঘুরে দাঁড়াতে দেখে আমি মুগ্ধ। ০-২ পিছিয়ে থাকা, কাঁধ ঝুঁকে যাওয়া অবস্থা থেকেই প্রত্যাঘাত করল ভারত।

সিরিজে সম্ভবত এই প্রথমবার। ট্রেন্ট ব্রিজের উইকেটে ঘাস ছিল। টস জিতে জো রুট ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ভয় হচ্ছিল, আবারও ৮ ওভারে ১৫/৩ এর মতো দৃশ্য দেখতে হবে না তো? শিখর ধওয়ন ও কে এল রাহুল প্রথম ঘন্টাটা বেশ দেখেশুনে খেলল। তারপর আবার সেই কোহলি শো। ওকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই! মনঃসংযোগের সামান্য ব্যাঘাত ঘটায় প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাতছাড়া করল। আগেও বহুবার বলেছি, কোহলিই এই দলের ব্যাটিংয়ের নিউক্লিয়াস। লর্ডসে ও ব্যর্থ হতেই গোটা দলও ভেঙে পড়েছিল। অজিঙ্ক রাহানের ফর্মে ফেরাটা ইতিবাচক। মিডল অর্ডারে ভারসাম্য আনার জন্য। দ্বিতীয় ইনিংসেও রাহানের পায়ের নড়াচড়া বেশ সাবলীল ছিল। 

দ্বিতীয় ইনিংসে চেতেশ্বর পূজারা ধৈর্যশীল ৭২ রান করে গেল। আর প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি মিসের প্রায়শ্চিত্ত বিরাট করল ২৩ নম্বর টেস্ট সেঞ্চুরিটা করে। সিরিজে নিজের দ্বিতীয়। আশির ঘরে ঢুকে কিছুটা মন্থর হয়ে গিয়েছিল। হয়তো ওর মাথায় ঘুরছিল প্রথম ইনিংসের কথা। ৯৩ রানে জেমস অ্যান্ডারসনের বলে গালিতে ওর ক্যাচও গলিয়ে দিল কিটন জেনিংস। তবে তাতে কোহলির কৃতিত্ব কমছে না।

তবে রবিবার হার্দিক পাণ্ড্যর ওই বিধ্বংসী স্পেলটা এবং ইংল্যান্ডের মাত্র ১৬১ রানে গুটিয়ে যাওয়াটা আমার কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটা কোহলির হাতের মুঠোয় এনে দিল হার্দিকের পাঁচ উইকেটই। ব্যাট হাতেও এদিন চালিয়ে খেলে হাফসেঞ্চুরি করে গেল। আসলে ওই ৫ উইকেটটাই ওর আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ করে দিয়েছে। তবে আরও ধারাবাহিকতা দেখতে চাই ওর কাছ থেকে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, পিচ কি অপেক্ষাকৃত সহজ ও মন্থর হয়ে গিয়েছে ব্যাটিংয়ের জন্য? তৃতীয় দিন জো রুটকেও বল করতে দেখলাম। তবে কোহলির ডিক্লেয়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশয় নেই। ৫২০ রানের লিড। সোমবার শেষবেলায় দুটো উইকেট তুলে নিতে পারলে চাপে রাখা যাবে, এই মনোভাব নিয়েই নেমেছিল ওরা। দিনের শেষে ইংল্যান্ড ২৩/০। তবে এখনও দু’দিন হাতে রয়েছে। ইশান্ত, হার্দিকদের ওপর আস্থা রয়েছে। বিরাট কোনও অঘটন না ঘটলে ভারতই জিতছে। আর সেটাই হয়তো বাকি সিরিজের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দিয়ে যাবে ওদের।