বাঙালির নয়নের মণি তিনি। বিশ্বের দরবারে হেঁট মুণ্ড ঊর্ধ্বপদ বাঙালিকে যাঁরা কিঞ্চিত যশ খ্যাতি দিয়েছেন, জর্জ এভারেস্টের প্রিয় পাত্র রাধানাথ তাঁদের একজন। 

ভূগোল বই হাতে ছোটদের সামনে আমরা আউড়েছি- পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট। এর উচ্চতা ২৯,০২৯ ফুট বা ৮৮৪৮ মিটার। এটি পরিমাপ করেন এক বাঙালি, রাধানাথ শিকদার, অনেকে তাকে বলেন হিউম্যান কম্পিউটার। একথাটুকু বলার সময়ে প্রতি বার আমাদের ছাতি ফুলে ছাপ্পান্ন। 

কিন্তু যদি বলি, ভূগোল বই সবটা বলেনি? যদি বলি তলিয়ে ভাবলে এভারেস্টের সঙ্গে আরও কিছু শৃঙ্গের নাম করতে হবে, বাঙালি কি ভিরমি খাবে? বাঙালির আত্মগর্বের জামায় কি দাগ লেগে যাবে? কিন্তু গল্প হলেও ইহাই সত্যি।

আসলে সমুদ্রতলকে শূন্য ধরে  পর্বতের উচ্চতা মাপা হয়। কিন্তু স্থূলেই ভুল। আমেরিকা মহাদেশের  উত্তর উপকূলের সমুদ্রতলের উচ্চতা আর ডায়মন্ড হারবারের সমুদ্রতলের উচ্চতা এক নয়। কাজেই মাপের উনিশ বিশ হবেই, বিশেষজ্ঞরা মিন সি লেভেল বা গড় মাত্রা ধরে নেন। তাছাড়া সমুদ্রের পেটের ভিতর রয়েছে অতল রহস্য। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মোউনা কি পর্বত শৃঙ্গের কথাই ধরা যাক। জলের তলায় উৎপত্তি স্থল থেকে ধরলে, এই পর্বতের উচ্চতা দাঁড়ায় প্রায় ৩৩৩০০ ফিট, অর্থাৎ এভারেস্টের থেকে ৪৩০০ মিটার বেশি। 

ছবি: শাটারস্টক, গ্রাফিক্স: অভিজিৎ বিশ্বাস

বলতে হবে মাউন্ট ডেনালির কথাও। প্রতিটি পর্বত শৃঙ্গই একটি উপত্যকার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। অনেকটা যেমন হাই হিলে সুতন্বী নারী। এভারেস্ট দাঁড়িয়ে আছে ১৬৫০০ ফুট উচ্চতার একটি উপত্যকায়।  মাউন্ট ডেনালি যে মালভূমিটির ওপর দাঁড়িয়ে সমুদ্রতল থেকে ২০,৩১০ ফুট উঁচু। হিসেব করলে দেখা যাবে বেসক্যাম্প থেকে এভারেস্টের দূরত্ব বেসক্যাম্প থেকে ডেনালির দূরত্বের তুলনায় কম। 

একটা চালু কথা আছে। চাঁদ থেকে চিনের প্রাচীরই নাকি একমাত্র দ্রষ্টব্য। এটা সর্বৈব সত্য নয়। মাউন্ট শিমবারাজো তারাদের অনেক কাছাকাছি। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে যদি মাপা যায়, ২০,৫৪৮ ফুটের  মাউন্ট শিমবারাজো এভারেস্টের থেকে  ৬৮০০ ফুটের বেশি উঁচু। ঊনিশ শতকে এই মান্য পদ্ধতি আসার আগে দীর্ঘ সময় এই শৃঙ্গটিকেই সেরার শিরোপা দেওয়া হত। যদিও মান্য গণনা পদ্ধতিটি এমন নয়।

গ্রাফিক্স: অভিজিৎ বিশ্বাস


শিমবারাজো হোক বা ডেনালি, এভারেস্টের রাজমুকুটটা কেউই কেড়ে নিচ্ছে না। রাধানাথের কৃতিত্বও এতে কমে না।  পাহাড়বাজ বাঙালির পর্বত নিয়ে টিপ্পনির স্টক বাড়ে, এই যা ।