জোরদার বর্ষা শুরু হতেই কলকাতা এবং শহরতলিতে ফের দেখা দিয়েছে ডেঙ্গি আতঙ্ক। যদিও একটু সতর্ক থাকলেই বিপদ এড়ানো সম্ভব। ডেঙ্গি থেকে কীভাবে বাঁচবেন, ডেঙ্গি হয়েছে বুঝবেনই বা কী করে? পরামর্শ দিচ্ছেন কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের উপদেষ্টা চিকিৎসক তপনকুমার মুখোপাধ্যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ নবান্নে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

• ডেঙ্গিকে বলা হয় ‘ব্রেক বোন ফিভার’। অর্থাৎ, ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে জ্বরের সঙ্গে সাধারণত শরীরে ব্যথা অনুভূত হয়। বিশেষত চোখের মণির পিছনে ব্যথা ডেঙ্গির অন্যতম লক্ষ্মণ। এছাড়াও বমি, পেট ব্যথাও প্রাথমিক উপসর্গ।

• ডেঙ্গি যদি জটিল আকার ধারণ করে, সেক্ষেত্রে রোগীর নাক-মুখ দিয়ে রক্তপাত, কালো মলত্যাগ হবে। এক্ষেত্রে দেরি না করে রোগীকে অবিলম্বে হাসপাতাল অথবা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। 

• যদিও ডেঙ্গি হলেই প্রাথমিক অবস্থায় সব উপসর্গ রোগীর শরীরে দেখা যাবে, এমন সবসময়ে নাও হতে পারে। ফলে, এই মরসুমে জ্বর হলে কোনওভাবেই উপেক্ষা করা চলবে না। ডেঙ্গির উপসর্গ থাক না থাক, চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নেওয়া উচিত। রক্তপরীক্ষা করতে হবে কি না, সেটা চিকিৎসকই বলে দেবেন।

• জ্বর হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনও জ্বরের ওষুধ অথবা ব্যথার ওষুধ খাওয়া চলবে না। এছাড়াও, জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গেই ওআরএস খাওয়া শুরু করতে হবে। সেক্ষেত্রে ডেঙ্গি হলেও রোগীর শারীরিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

• এখন জ্বরের প্রথম এক অথবা দু’দিনেই রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গি নির্ণয় করা সম্ভব। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, যাতে এলিজা পদ্ধতিতে এনএস-১ রক্তপরীক্ষা করা হয়। কারণ, এই পদ্ধতিতেই নির্ভুলভাবে ডেঙ্গি নির্ণয় সম্ভব।

• ডেঙ্গি হওয়া মানে রোগী এবং তার পরিবারেরও কিছু দায়িত্ব থাকে। বাড়িতে কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলেই অবিলম্বে স্থানীয় পুরসভাকে তা জানানো উচিত। তাহলে পুরসভার পক্ষ থেকে দ্রুত এলাকায় ডেঙ্গির জীবাণুবাহী মশা মারার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। ডেঙ্গিকে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার থেকে আটকানো সম্ভব হবে।

• একইভাবে, ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীকে অন্তত পাঁচ-সাতদিন মশারির মধ্যে রাখা উচিত। তা হলেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার থেকে আটকানো যাবে।

• ডেঙ্গির রক্তপরীক্ষা অনেকের পক্ষেই কিছুটা হলেও ব্যয়বহুল। শহরের প্রথম সারির ল্যাবগুলিতে গড়ে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা খরচ পড়ে। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব পাঁচটি ডেঙ্গি নির্ণয়কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে শুধু কলকাতা পুরসভা এলাকার বাসিন্দারাই নন, শহরের বাইরে যে কোনও এলাকা থেকেই মানুষ এসে  বিনামূল্যে রক্তপরীক্ষা করাতে পারেন। কলকাতা পুরসভার সব ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই ডেঙ্গি নির্ণয়ের জন্য রক্ত সংগ্রহ করা হয়। রিপোর্টও সেখান থেকেই পাওয়া যায়। যদিও কেউ ডেঙ্গির রক্তপরীক্ষা করাতে এলে পুরসভার নিজস্ব মেডিক্যাল অফিসার রোগীকে পরীক্ষা করে ডেঙ্গির জন্য রক্তপরীক্ষা প্রয়োজন কি না,  সেই সিদ্ধান্ত নেবেন। 

• এগুলো ছিল উপসর্গ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি সংক্রান্ত পরামর্শ। কিন্তু কীভাবে ডেঙ্গি প্রতিরোধ করা সম্ভব? ডেঙ্গির মশা ছোট জায়গায় পরিষ্কার জমা জলে জন্মায়। ফলে বাড়ি এবং তার চারপাশে ছোট প্লাস্টিকের কাপ, ভাঁড়, ডাবের খোলা অথবা ছোট কোনও পাত্রে যাতে বৃষ্টি বা অন্য কোনও জল জমে না থাকে, তা  নিশ্চিত করুন।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গিতে আক্রান্ত পড়ুয়ার মৃত্যুর দায় নিয়ে দিনভর চাপানউতোর