১৯৩০ সালে শুরু হয় ‘কমনওয়েলথ গেমস’। তার পর থেকে প্রতি চার বছর অন্তর এই খেলা অনুষ্ঠিত হয় ‘কমনওয়েলথ অফ নেশানস’-এর বিভিন্ন দেশে। যার মধ্যে নাম রয়েছে ভারতও।

শুরুর বছরে না থাকলেও, ১৯৩৪ সাল থেকেই ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা নানা ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন এ যাবৎ। প্রসঙ্গত, ১৯৫০, ১৯৬২ ও ১৯৮৬ সালে ভারতকে দেখা যায়নি কমনওয়েলথে।

এখনও পর্যন্ত কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় মহিলাদের পরনে সব সময়েই শাড়ি দেখা গিয়েছে। কিন্তু, এ বছরে তা বদলাচ্ছে। পুরুষ খেলোয়ারদের মতো তাঁদের পরনেও এবার থাকবে ব্লেজার ও ট্রাউজার। 

গত ২০ তারিখ, ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (আইওএ) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। এই ক্রীড়া সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাদের কাছে আসা ‘ফিডব্যাক’-এর ভিত্তিতেই।

নতুন পোশাকের ব্যাপারে অনেক মহিলা ক্রীড়াবিদই প্রভূত খুশি হয়েছেন। অন্য দিকে, বেশ কয়েকজন আপত্তিও জানিয়েছেন। অলিম্পিকে পদকজয়ী পি ভি সিন্ধু, সাক্ষী মালিক ও জ্বালা গুট্টার মতো বেশ কয়েকজন অ্যাথলিট, ভারতীয় ঐতিহ্য ভাঙতে একেবারেই রাজি নন। 

কিন্তু, ২০১৪ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথের স্বর্ণপদক জয়ী অপূর্বী চান্ডেলা অবশ্য মনে করেন, মেয়েরা ব্লে়জার-ট্রাউজার পরলেও সমান ‘গ্রেসফুল’ লাগবে। এ বছরের এক প্রমিসিং রাইফেল শুটার, মেহুলি ঘোষেরও প্রায় একই বক্তব্য। পঞ্জাবী অ্যাথলিট খুশবীর কউর তো আনন্দে আত্মহারা। কারণ, তিনি শাড়িতে মোটেই স্বাচ্ছন্দ্য নন। 

২০০৪ সালের অলিম্পিক্সে ভারতীয় কনটিনজেন্টের ক্যাপটেন ছিলেন কিংবদন্তী লং-জাম্পার অঞ্জু ববি জর্জ। তাঁর বক্তব্য অবশ্য শাড়ির বিরুদ্ধে। কারণ, ক্যাপটেন হওয়ার ফলে, সে বছর তাঁর হাতেই ছিল ভারতের পতাকা। শাড়ি পরে পতাকা নিয়ে মার্চ করতে খুবই অসুবিধা হয়েছিল তাঁর, বলে জানিয়েছেন অঞ্জু। 

যে কোনও কিছু নতুন মানেই তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হওয়া স্বাভাবিক। ফলে, শাড়ি না ট্রাউজার, এ নিয়েও মতোবিরোধ হওয়া ব্যতিক্রম নয়। আসল ব্যাপার তো ভারতের ঝুলিতে পদক আসা নিয়ে।