সল্টলেকের শামু সিং গত দু’বছর ধরেই ক্যাবচালক। আঠেরো-উনিশ বছর বয়স থেকে পারিবারিক কারণেই তাঁকে উপার্জনক্ষম হয়ে উঠতে হয়। কিন্তু টিনএজে যে স্বপ্নটা দেখেছিলেন তাকে সযত্নে লালন করে গিয়েছেন। আর সেই স্বপ্নপূরণ করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ফ্যাশন ও ট্যালেন্ট ব্র্যান্ড এফফেস-এর কর্ণধার নীল রায়। 

ছবি সৌজন্য: শামু সিং

পেশায় তিনি একজন করপোরেট ব্যাঙ্কার কিন্তু এফফেস তাঁর প্যাশন। এফফেস ফ্যাশন ক্যালেন্ডার লঞ্চ হয় ২০১৪ সালে। ফ্যাশন ও বিনোদন জগতে যাঁরা কেরিয়ার তৈরি করতে চান তাঁদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে তাঁর সংস্থা মাত্র তিন বছরেই। এফফেস ক্যালেন্ডার ২০১৮-র জন্য সম্প্রতি রেজিস্ট্রেশন আহ্বান করা হয়েছিল।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশনের পরে কয়েকটি রাউন্ড অডিশনের মাধ্যমে তবেই চূড়ান্ত করা হয় মডেলদের। এই সংবাদটি পেতেই শামু সিং দেখা করেন এফফেসের প্রতিনিধি দেব দত্তের সঙ্গে। 

শামুর কাছে কোনও প্রফেশনাল পোর্টফোলিও না থাকায় তিনি এফফেস প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেন মোবাইল ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলি জমা নিতে। এছাড়া শামু যে বেশ কষ্ট করেই রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ফিজের সংস্থান করেছেন, সেটাও জানতে পারেন এফফেস প্রতিনিধি। কর্ণধার নীল রায়ের কাছে এই খবরটি পৌঁছতেই তিনি রেজিস্ট্রেশন ফিজ ফিরিয়ে দিতে বলেন। নিজে উদ্যোগী হয়ে কথা বলে জানতে পারেন যে অডিশনে নির্বাচিত হলে শামু যে কোনও মূল্যে এই ক্যালেন্ডার শ্যুটে অংশ নিতে চান। সময়ের সমস্যা হলে এমনকী তিনি তাঁর ক্যাবচালকের পেশা ছাড়তেও রাজি। 

ছবি: নীল রায়ের ফেসবুক পেজ থেকে

শামুর এই নিষ্ঠা ও প্যাশন থেকে মুগ্ধ হন নীল। শুধু তাই নয় এই অভিজ্ঞতাটি এতটাই মন ছুঁয়ে গিয়েছে তাঁর যে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন তিনি ঘটনাটি এবং লিখেছেন, ‘‘একেবারেই বিনা পারিশ্রমিকে একটি প্রফেশনাল পোর্টফোলিও বানিয়ে দেব আমরা আর সেটা এফফেস-এর প্রফেশনাল ফোটোগ্রাফারই করবেন। তাছাড়া শামুকে আমরা ফাইনাল অডিশনে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তার আগের বাছাই পর্বগুলির মধ্যে দিয়ে ওঁকে যেতে হবে না।’’

এফফেস ও নীল রায়ের এই সহায়তায় উচ্ছ্বসিত শামু। এবেলা ওয়েবসাইটকে জানালেন, ‘‘আমার বাড়িতে সবাই খুব খুশি, বিশেষ করে আমার মা। মডেলিংয়ের ব্যাপারে বরাবরই খুব উৎসাহ দিয়ে এসেছে। আমি অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছিলাম। আমার পরিচিত কৌস্তভদার মাধ্যমেই দেবদা মানে দেব দত্তের সঙ্গে আলাপ হয়। অডিশনের ব্যাপারে জানার পরে মা-ও আমাকে বলে চেষ্টা করতে।’’ 

ছবি সৌজন্য: শামু সিং

কিন্তু এফফেস যে এভাবে তাঁর পাশে দাঁড়াবে দেবে সেটা সত্যিই ভাবেননি শামু। এফফেস-এর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় টিম এবেলা.ইন। আর শামু সিংয়ের জন্য রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা।