ইস্টবেঙ্গল আনছে কোস্তা রিকার বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্টাকে। লাল-হলুদে বিশ্বকাপারের আগমনের খবর প্রকাশিত হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেই কলকাতা ময়দানকে নস্ট্যালজিয়ায় ভাসিয়ে দিলেন অ্যাকোস্টারই অগ্রজ— কার্লোস হার্নান্দেজ। ফেসবুকে পোস্ট করে কোস্তা রিকার শিল্পী মিডফিল্ডার হার্নান্দেজ জানিয়ে দিলেন, তিনি বুট জোড়া তুলে রাখলেন। এর সঙ্গেই ১৯ বছরের ফুটবল কেরিয়ারে পূর্ণচ্ছেদ বসিয়ে দিলেন ১৬ নম্বর জার্সিধারী। হার্নান্দেজের পছন্দের জার্সির নম্বরই তো ছিল ১৬। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এ যেন অ্যাকোস্টার শুরু। হার্নান্দেজের শেষ। অ্যাকোস্টা শুরু করতে চলেছেন ভারতে। অনুজ অ্যাকোস্টা কলকাতায় পা রাখার অনেক আগেই হার্নান্দেজ ফুটবলের মক্কা মাতিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন।  

তখন তিনি প্রয়াগ ইউনাইটেডের ফুটবলার। ছবি— কার্লোস হার্নান্দেজের ফেসবুক পেজ থেকে

এহেন হার্নান্দেজ ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়ে দিলেন, ফুটবলকে তিনি বিদায় জানাচ্ছেন। ২০১২-১৩ মরসুমে কোস্তা রিকার বিশ্বকাপারকে ইউনাইটেড স্পোর্টস কলকাতায় এনেছিল। তাঁর খেলা দেখে ফুটবলপাগলদের মনে ভেসে উঠেছিলেন মজিদ বাসকর। 

মাঠের বিভিন্ন জায়গা থেকে দূরপাল্লার শট নিতে দক্ষ ছিলেন কার্লোস। ঠিকানা লেখা পাস বাড়ানোয় কোস্তা রিকার বিশ্বকাপারের জুড়ি মেলা ভার। ডেম্পোর বিরুদ্ধে খেলার শেষ লগ্নে মন ভোলানো ফ্রি কিক-এর কথা কি কেউ ভুলতে পারবেন? 

কল্যাণীতে ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার গুরপ্রীত সিংহ সান্ধুর পায়ের তলা দিয়ে বল গলিয়ে গোল হজম করেছিলেন। মাঝমাঠ থেকে শটটা নিয়েছিলেন হার্নান্দেজই। গুরপ্রীতের সেই মহাভুল এখনও সবার স্মৃতিতে জীবন্ত। 

সেই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে ছিল দু’গোলে। হার্নান্দেজের মুন্সিয়ানায় সেদিন ম্যাচ ড্র রাখে ইউনাইটেড স্পোর্টস। তিনি গোল করেছিলেন এবং র‌্যান্টি মার্টিন্সকে দিয়ে গোল করিয়েছিলেন। র‌্যান্টিকে সোনায় মোড়ানো যে পাসটা দিয়েছিলেন হার্নান্দেজ, তাতে হাঙরের হাঁ তৈরি হয়েছিল লাল-হলুদের রক্ষণে। হার্নান্দেজের সময়েই ইউনাইটেড আইএফএ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। র‌্যান্টি মার্টিন্স শিল্ড ফাইনালে গোল করেছিলেন। তখন অবশ্য ইউনাইটেড স্পোর্টস প্রয়াগ ইউনাইটেড নামেই পরিচিত ছিল। মোহনবাগানের বিরুদ্ধেও কোটি টাকার পাস বাড়িয়েছিলেন কার্লোস। ভিনসেন্ট ছোঁ মেরে গোল করে গিয়েছিলেন। 

ইউনাইটেড স্পোর্টসের পরে ডেম্পোর হয়েও খেলেছেন হার্নান্দেজ। ফুটবল কেরিয়ারে যে ক্লাবগুলোয় খেলেছেন এই শিল্পী মিডফিল্ডার, ফেসবুক পোস্টে সেই ক্লাবগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। আলাদা করে প্রয়াগ ইউনাইটেড ও ডেম্পোর কথা উল্লেখ করেছেন হার্নান্দেজ। তাঁর খেলা যেমন ছিল দর্শনীয়, তেমনই খুবই সহজ সরল মানুষ ছিলেন। তাঁর মেয়ের নাম ছিল লক্ষ্মী। কোস্তা রিকার বিশ্বকাপারের মেয়ের এমন নাম নিয়ে আলোচনা হতো ময়দানে।