নিছকই কফি সহযোগে আড্ডা। আর সেখান থেকেই উঠে এল আইডিয়া। সেই আইডিয়া থেকেই তৈরি হল একটা নতুন শর্ট ফিলম ‘পালক’। রাতুল মুখোপাধ্যায় ও রূপাঞ্জনা মিত্রর প্রযোজনা সংস্থা ‘ফেদার হ্যাটস এন্টারটেইনমেন্ট’-এর এটাই প্রথম প্রয়াস। ছবিতে অভিনয় করেছেন রূপাঞ্জনা মিত্র, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও দেবারতি গুপ্ত।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

স্বাভাবিক ভাবেই এবেলা.ইন-কে সেই প্রথম অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বেশ খানিকটা আবেগ ধরা পড়ল রূপাঞ্জনার গলায়। জানালেন, ‘‘ফেদার হ্যাটস এন্টারটেইনমেন্ট ইজ আ মাদার বডি অ্যান্ড পালক ইজ আওয়ার ফার্স্ট চাইল্ড।’’ 

শ্যুটিংয়ের অবসরে। নিজস্ব চিত্র।

কফি খেতে খেতে আড্ডা। সেই আড্ডাই বাঁক নিল অন্য দিকে। প্রযোজনা সংস্থার শুরুটা একটা এমন কাজ দিয়ে করতে চাইছিলেন রাতুল-রূপাঞ্জনা, যেটা নিছক একটা কাজ হবে না। বরং তা এক সামাজিক দায়িত্ব পালন করবে। সেই কথা মাথায় রেখেই ছবির কাহিনি লেখা হয়েছে। বহু মানুষ জীবনের অন্ধকার সময়ে বিষণ্ণতায় ভুগতে থাকেন। শেষমেশ আত্মহননের চরম পথের দিকে এগিয়ে যান। ছবির সূত্রে তাঁদের কাছে একটা বার্তা তুলে দিতে চেয়েছেন প্রযোজকদ্বয়। তাঁদের আশা, যদি একটি প্রাণও নতুন করে বাঁচার দিশা খুঁজে পায় ছবিটি থেকে, তাহলেই তাঁদের পরিশ্রম সার্থক।

রূপাঞ্জনা জানালেন, ‘‘ছবিটার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই নিবিড়, কেননা ছবিতে আমার করা অনুরূপা চরিত্রটা আমার কাছে খুবই বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়েছে।’’

ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। আগেও তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে রূপাঞ্জনার। জানালেন, ‘‘অপুদার মতো দক্ষ অভিনেতার সঙ্গে কাজ করাটা সত্যিই আনন্দের। এর আগেও ওঁর সঙ্গে কাজ করেছি বলে প্রথম থেকেই কাজটা স্বচ্ছন্দে করতে পেরেছি।’’

তুলনামূলক নতুন মুখ রাতুল। তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত রূপাঞ্জনা। জানিয়ে দিলেন, অভিনেতা ও পরিচালক— দুই দিক দিয়েই রাতুল লম্বা রেসের ঘোড়া।

রাতুল জানাচ্ছেন, ‘‘এটাই আমার প্রথম পরিচালনা। ফলে প্রজেক্টটার আগে বেশ নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু ফ্লোরে যাওয়ার পরে আর কোনও অসুবিধা হয়নি।’’

ছবিতে রূপাঞ্জনা ও শাশ্বতর কাজ দেখে মুগ্ধ রাতুল। আপাতত আরও কয়েকটি কাজের পরিকল্পনা তৈরি। ‘পালক’-এর পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ সেরে হাত দেবেন সেগুলোয়। 

আপাতত অপেক্ষা। এমাসের শেষেই হয়তো মুক্তি পেতে চলেছে ‘পালক’। ছবি ঘিরে রূপাঞ্জনা-রাতুলের স্বপ্ন এই মুহূর্তে পালকের মতোই নির্ভার ও আকাশমুখী।