যাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবনই কাটল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায়, সেই প্রণব মুখোপাধ্যায় এবার ভাষণ দিতে যাবেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান কার্যালয়ে। 

এখনও পর্যন্ত যা খবর তাতে জুনের ৭ তারিখ আরএসএস-এর সদর দফতর নাগপুরে সঙ্ঘের নতুন প্রচারক বাহিনীর সামনে বক্তৃতা দেবেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। একদিন সেখানে থেকে ৮ তারিখ তিনি নাগপুর ছাড়বেন।

যদিও এখনও পর্যন্ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির অফিস থেকে সরকারি ভাবে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু আরএসএস সূত্রের খবর, সঙ্ঘের তৃতীয় বর্ষ শিক্ষা বর্গের শিবিরে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য প্রণববাবুকে অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তিনি তা গ্রহণ করে নাগপুরে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

প্রণবের এই সিদ্ধান্তে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যিনি সেই ৬০-এর দশক থেকে কংগ্রেসি রাজনীতি করে এলেন, ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে পর্যন্ত যিনি কংগ্রেসের অন্যতম ত্রাতা হিসেবে কাজ করেছেন, সেই প্রণব মুখোপাধ্যায় কীভাবে আরএসএস-এর অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে রাজি হলেন, তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ওমপ্রকাশ মিশ্র যেমন নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘‘প্রনববাবু নাগপুরে গিয়ে আরএসএস কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করবেন? আমি দুঃখিত, লজ্জিত।’’ 

প্রবীণ কংগ্রেস নেতারা এখনও কেউ ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না যে তাঁরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

কারণ কংগ্রেস নেতারা মনে করেন আরএসএস-ই বিজেপির চালিকাশক্তি। সেই আদর্শই বিজেপি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী বার বার আরএসএস-এর মতবাদের সমালোচনা করেছেন। আদর্শের দিক থেকে কংগ্রেস ও আরএসএস সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করে।

এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কীভাবে প্রণব মুখোপাধ্যায় গেরুয়া শিবিরের এই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন, তা নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে।

এর আগেও অবশ্য একাধিকবার সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ভাগবতের সুসম্পর্ক অনেকদিনের। সেই সূত্রেই প্রণবের নাগপুর যাওয়া বলে মত অনেক রাজনীতিকের। 

শেষমেশ নাগপুরে গিয়ে প্রণব সঙ্ঘ প্রচারকদের ঠিক কী বার্তা দেন, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজনৈতিক মহল।