তিন দিনের ব্যবধানে দু’-দুটো ব্রিজ বিপর্যয়। কিন্তু একটিরও দায় রাজ্য সরকারের নয়। অন্তত রাজ্যের মন্ত্রী এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের দাবি সেই রকমই। মাঝেরহাটের পরে এবার শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়াতেও সেতু বিপর্যয়ের দায়ে নিতে নারাজ সরকার। 

মাঝেরহাটের ক্ষেত্রে সরকারিভাবেই মেট্রোর কাজকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিতর্কের মধ্যেই শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ির কাছে ফাঁসিদেওয়ায় ভেঙে পড়ে একটি ছোট সেতু। ঘটনাস্থলে গিয়ে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব দাবি করেন, ওই সেতুটি শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত এলাকার মধ্যে পড়ে। মহকুমা পরিষদ দখলে রয়েছে বামফ্রন্টের। ফলে, ওই সেতু ভাঙার দায়ও বাম পরিচালিত মহকুমা পরিষদের উপরেই চাপিয়েছেন মন্ত্রী!

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

নিজের দাবির স্বপক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন গৌতম দেব। তাঁর কথায়, সাংবিধানিকভাবেই মহকুমা পরিষদের ক্ষমতা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখানে রাজ্য সরকারের কিছুই করণীয় নেই। 

পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। ফাইল চিত্র

গৌতম দেবের এই যুক্তি অবশ্য মানতে চাননি সিপিএম নেতারা। সিপিএম নেতা জীবেশ সরকারের পালটা দাবি, সেতুটিকে অনেকদিন আগেই দুর্বল বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সংস্কারের জন্য রাজ্যের কাছে টাকা চাইলেও তা বরাদ্দ করা হয়নি। জীবেশবাবুর দাবি, সেতু ভেঙে পড়ায় বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। অবিলম্বে সেতু মেরামতি করার জন্য রাজ্যের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি। 

বিরোধীরা বলছেন, গৌতমবাবুকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। উল্টোডাঙা, পোস্তা বা হালের মাঝেরহাট— ভেঙে পড়া কোনও সেতুর ক্ষেত্রেই ভেঙে পড়ার দায় নেয়নি রাজ্য সরকার। বরং কখনও পূর্বতন সরকার, কখনও মেট্রো রেলের কাজের উপরে দায় চাপানো হয়েছে। মাঝেরহাটের ক্ষেত্রেও এখনও দায়ে নেওয়ার জন্য কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই অবশ্যই রাজ্যের তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই ভেঙেছে সেতু। তার পরেও মুখ্যমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে পূর্ত দফতরের রিপোর্টেও মেট্রোর কাজকেই ব্রিজ ভাঙার জন্য কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে।


প্রতিটি ক্ষেত্রেই মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, সরকার দোষীদের কড়া শাস্তি দেবে। পোস্তা, উল্টোডাঙার ক্ষেত্রে অবশ্য তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মাঝেরহাটে কী হবে, তা সময় বলবে।

মাঝেরহাটে গিয়ে ঘটনার দায় না নিলেও উদ্ধারকাজের জন্য পুলিশ-প্রশাসনকে কৃতিত্বে ভরিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ধারা বজায় রেখে এ দিন ফাঁসিদেওয়ায় পর্যটনমন্ত্রী ছুটে গিয়েছেন। বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, উদ্ধারকাজ ছাড়া ব্রিজ ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারের যে কিছুই করনীয় নেই!

প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে অগুনতি ভগ্নপ্রায় সেতুর ছবি রোজ উঠে আসছে সংবাদমাধ্যমে, সেগুলির দায় কার উপরে চাপাবে সরকার?