গ্লোব-ট্রটার বা ভূ-পর্যটক— শব্দটা শুনলেই মনে পড়ে যায় ‘সোনার কেল্লা’র মন্দার বোসকে। যিনি সকলকে বোকা বানাতে পারলেও, খুব সহজেই ধরা পড়ে গিয়েছিল ফেলুদার চোখে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

ভূ-পর্যটক মন্দার বোস বিশ্বের কতটুকু ঘুরেছিলেন, তা ছবিটি দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু যাঁরা ইবন বতুতার নাম শুনেছেন, তাঁরাই জানবেন ‘গ্লোব-ট্রটার’ শব্দের আসল অর্থ।

মাত্র ২১ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন মরোক্কোর এই যুবক। তার পরে প্রায় ২৯ বছর ধরে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন বিশ্বের ৪৪টি দেশে। এবং এক সময়ে তিনি এসে পৌঁছন ভারতে। তখন দিল্লির মসনদে ছিলেন মহম্মদ বিন তুঘলক। প্রায় সাত বছর ইবন বতুতা ছিলেন তুঘলকের সভা-পারিষদ। এবং সেই সময়ে ভারতের আনাচে-কানাচে ঘুরে ছিলেন এই গ্লোব ট্রটার।

তবে ঠিক কোন পথে তিনি ভারতভূমে পা রেখেছিলেন, তা বলা কঠিন। খাইবার পাস বা আরও খানিক দক্ষিণের দিক দিয়ে শতদ্রু নদ পেরিয়েই সম্ভবত ভারতে ঢুকেছিলেন এই পর্যটক। পরবর্তীকালে, এক ভ্রমণবৃত্তান্ত লেখেন ইবন বতুতা। সংক্ষেপে যার নাম ‘রিহলা’, ইংরেজিতে ‘দ্য ট্রাভেলস’।


কোন পথে বিশ্ব জয় করেছিলেন ইবন বতুতা। ছবি— উইকিপিডিয়া

ইবন বতুতার জন্ম হয় এক ইসলামিক পণ্ডিত পরিবারে। এবং তিনি যখন বাড়ি ছাড়েন মূলত মক্কার উদ্দেশ্যে, হজ করতে। তাঁর লেখনী থেকেই জানা যায় যে, সেই যুগে মরোক্কো থেকে মক্কা যাতায়াত করতে মোটামুটি সময় লাগত ১৬ মাস। কিন্তু, ইবন বতুতা বাড়ি ফিরেছিলেন প্রায় ২৪ বছর পরে। 

জীবনের এই দীর্ঘ ভ্রমণের সময়ে ইবন বতুতা বিয়ে করেছিলেন অসংখ্য মহিলাকে। তাঁর ছেলেমেয়ের সংখ্যাও ছিল অগুনতি। 

তাঁর ভ্রমণ-বিবৃতি থেকে আরও জানা যায় যে, ইবন বতুতা মূলত সেই সব দেশেই গিয়েছিলেন, যেখানে ইসলাম ধর্মের আধিক্য ছিল। যেমন, ইরাক, পারস্য, আরব।

সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে ইবন বাতুতা ভারতে কেন এসেছিলেন? 

সম্ভাব্য উত্তর, সেই সময়ে এক মুসলমানই ছিলেন এ দেশের শাসনকর্তা।