মঙ্গলবার জাকার্তায় এশিয়ান গেমসের শুটিংয়ে সোনা পেল মেরঠের ১৬ বছরের সৌরভ চৌধুরী। ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে। ভারতের সর্বকনিষ্ঠ শুটার হয়ে সোনাজয় সৌরভের। স্কোর ২৪০.৭!

সৌরভ পিস্তল ধরেছে দু’বছর আগে।  মেরঠের কালিনা গ্রামে তার বাড়ি থেকে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার দূরে বেনোলি’তে অমিত শেওরানের শুটিং অ্যাকাডেমিতে সে শিখেছে পিস্তল শুটিং। বাবা চাষী। সৌরভেরও পড়াশুনোর পাশাপাশি চাষের কাজে বাবাকে সহায়তা করেই দিন কাটত। এক বন্ধুর উৎসাহে একদিন অমিত শেওরানের অ্যাকাডেমিতে গিয়ে ছাত্রদের শুটিং করতে দেখে শুটিংয়ের প্রতি সৌরভেরও তৈরি হয়েছিল আকর্ষণ। চাষের কাজে বাবাকে সহায়তা করার অভ্যাস তার এখনও যায়নি! মঙ্গলবার সোনাজয়ের পর সৌরভ সংবাদসংস্থাকে বলেছে, ‘‘এখন সময়টা আগের মতো পাই না। কিন্তু মাঝে মাঝে বাড়ি গেলে এখনও বাবার সঙ্গে ক্ষেতে নেমে পড়ি। আমার ভালই লাগে ক্ষেতে কাজ করতে।’’

সৌরভ’কে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন অভিনব বিন্দ্রা। লিখেছেন, ‘অসাধারণ পারফরম্যান্স সৌরভ। এরকম তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পাশে আমাদের দাঁড়ানো উচিত। অলিম্পিক্সেও ওদের পদক পাওয়ার যোগ্যতা আছে’। কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে সৌরভ আরও বড় অঘটন ঘটিয়েছিল। প্রথমবার এশিয়ান গেমসের মতো সিনিয়র ইভেন্টে অংশ নিয়ে সৌরভ হারিয়েছিল অলিম্পিক্সে চারবারের সোনাজয়ী ও তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়ার জিং জং জো’কে! তাঁর সোনাজয়ের স্কোরও ২০১০-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্কোরের চেয়ে বেশি! উচ্ছ্বসিত সমরেশ জংও। কমনওয়েলথ গেমসে সাতবারের সোনাজয়ী শুটার। বলেছেন, ‘‘অসম্ভব মনের জোর। দুর্দান্ত মনঃসংযোগ। আগামীদিনে সৌরভের দিকে তাকিয়ে থাকব। টোকিও অলিম্পিক্সেও সোনা জিতলে বিস্মিত হব না।’’ জং হয়তো ঠিকই বলেছেন। কারণ সৌরভ বলেছে, ‘‘আমি কোনও মানসিক চাপের শিকার হইনি। শুধু নেমেছিলাম শুটিংটা উপভোগ করার জন্য।’’ সৌরভ এবার যাবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে।

সৌরভের সঙ্গে রুপো জিতেছেন ৩৭ বছরের সঞ্জীব রাজপুত। ৫০ মিটার রাইফেল ৩ পোজিশনে। সঞ্জীবের বিরুদ্ধে এখনও এক সতীর্থ মহিলা রাইফেল শুটারের ধর্ষণের অভিযোগের মামলা আদালতে বহাল। সেই কারণে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার সহকারী কোচের চাকরিও তাঁর গিয়েছে। তবে জাকার্তায় রুপো জয়ের পর সঞ্জীব চাকরি পাওয়ার আশা করছেন।

ওঁরা ছাড়াও অভিষেক বর্মা ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ব্রোঞ্জ জিতলেন। এবারই তাঁর প্রথম এশিয়ান গেমস।