আজ, শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে, ‘গার্ডিয়ান্স অফ দ্য গ্যালাক্সি: ভলিউম টু’। ‘মার্ভেল কমিক্‌স’এর ভক্তদের কাছে যেটা ভিস্যুয়াল ট্রিট। স্টার-লর্ড এবং তার সেনাবাহিনী আবার আসছে। ইন্টার-গ্যালাক্টিক দস্যুদের কাহিনি আবার বড় পরদায়। কিন্তু কেন দেখবেন পার্ট টু? জানাচ্ছে ‘ওবেলা’।

নেবুলা আসছে
টিমে নতুন সদস্যরা। স্টার-লর্ডের চরিত্রে ক্রিস প্র্যাট, গামোরা’র চরিত্রে জো সালডানা, ড্র্যাক্সের চরিত্রে ডেভ বাতিস্তা, রকেট রাকুনের চরিত্রে ব্র্যাডলি কুপার এবং গ্রুটের চরিত্রে ভিন ডিজেল থাকছেনই। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও অনেক চরিত্র। ইয়ন্ডু (মাইকেল রুকার) এবং নেবুলা (ক্যারেন জিলান) যার মধ্যে অন্যতম। নেবুলার চরিত্রটা এবারের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে। স্টার-লর্ডের দলে সরাসরি যোগ দিচ্ছে না সে। তবে এই মহিলা চরিত্রটি যে দাপুটে হতে চলেছে, সেটা বলা যেতে পারে। ম্যান্টিস (পম ক্লিমেন্টিফ) নামে একটি চরিত্রও আসছে। সে আবার সাইকিক। 

বেবি গ্রুট ভরপুর
ছবির একটা বড় অংশ জুড়ে থাকছে বেবি গ্রুট। প্রথম পর্বে বিরাট বলিদান দিয়েছিল সে। রক্ষা পেয়েছিল অল্পের জন্য। কাজেই গ্রুট থেকে বেবি গ্রুট হওয়ার পর সে খুব একটা মুখ দেখায়নি প্রথম পর্বে। সেই সুযোগই সে পাচ্ছে দ্বিতীয় পর্বে। বিরাট গাছ-দানব থেকে মিষ্টি শিশু-গাছ হওয়া গ্রুটকে দেখার জন্য টিকিট কাটতেই হচ্ছে! কমেডি তো সে-ই সরবরাহ করবে। ট্রেলারও তো তাই বলেছিল। বেবি গ্রুট থিমের মার্চেন্ডাইজও ইতিমধ্যেই হিট। শুধুমাত্র বেবি গ্রুটকে নিয়েই স্পিন-অফ করে ফেলতে পারে ‘মার্ভেল’। 

মার্ভেল কসমিক ইউনিভার্স
পরিচালক জেমস গান একমাত্র স্টার-লর্ডের চরিত্রটাকেই একটু পৃথিবীর কাছাকাছি রেখেছেন। মানে ‘হিউম্যান ক্যারেক্টার’ আর কী! তাঁর লক্ষ্য ‘মার্ভেল’এর ‘কসমিক ক্যারেক্টার’দের তুলে ধরা। ভক্তদের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এজন্যই এলিয়েনদের নতুন প্রজাতি ‘সভরেন’দের এত গুরুত্ব দিয়েছেন পরিচালক। ইগো’র মতো এলিয়েন চরিত্র এনেছেন সেই কারণেই। এছাড়াও একগুচ্ছ নতুন জাতির সন্ধান মিলবে এই ছবিতে। 

একাধিক এন্ড ক্রেডিট
‘মার্ভেল ইউনিভার্স’ মানেই সুপারহিরোদের একটু অন্যরকম ট্রিটমেন্ট। এই ছবির কুশীলব ঠিক সেই অর্থে মহামানব বা সুপারহিউম্যান নয়। এরা আবার রীতিমতো দুষ্কৃতী! তাই লেটেস্ট এডিশনে মশলা থাকছেই। বিশ্বের অনেক দেশেই ছবি মুক্তি পেয়েছে। মার্ভেল ভক্তরা পোস্ট ক্রেডিট সিন দেখেই নাকি ছিটকে গিয়েছেন! ‘মার্ভেল’এর অন্যতম ইউএসপি এন্ড ক্রেডিট। যেখানে একটা হিন্ট থাকে পরের ছবিতে কী হতে চলেছে। প্রথম পর্বের শেষেও যে চমকটা ছিল, দ্বিতীয় পর্বেও রয়েছে। প্রথম পর্বের এন্ড ক্রেডিটে ছিল বেবি গ্রুট। এই পর্বে নাকি পাঁচটা এন্ড ক্রেডিট! একটাই ‘ইনফিনিটি ওয়ার’এর হিন্ট। আরেকটায় স্বয়ং স্ট্যানলি মহাশয়! বাকিগুলোতে কী? তার জন্য তো সিনেমা হল’এ গিয়ে ছবিটা দেখতে হবে নাকি!

‘পাপা’ কে
স্টার-লর্ডের বাবার দেখা মিলবে পার্ট টু’এ। স্টার লর্ডের ‘পাপা’ কে ছিলেন, তা নিয়ে পার্ট ওয়ানে বিস্তর রহস্য-রোমাঞ্চ তৈরি হয়েছিল। প্রথম পর্বে জানা গিয়েছিল, ইনফিনিটি স্টোনের ধাক্কা সামলে উঠতে স্টার-লর্ড পিটার কুইলকে সাহায্য করেছিল কোনও ‘কসমিক পাওয়ার’। সে-ই পিটারের বাবা কি না, জানা যাবে ‘গার্ডিয়ান্স’এর দ্বিতীয় পর্বে। ইগো দ্য লিভিং প্ল্যানেট-ই (কার্ট রাসেল) নাকি তার বাবা। ইগো কী রকম, তা জানা যাবে এই পর্বে।

দ্য সভরেন্‌স
থানোস’এর চরিত্রটা এবার বাদ বলেই মনে করা হচ্ছে। ‘মার্ভেল ইউনিভার্স’এ থানোস’এর গুরুত্ব বেড়েছিল ‘গার্ডিয়ান্স’এর প্রথম পর্বের পর। ২০১৮’তে মুক্তি পাচ্ছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি স্টোন’। তার আগে ‘গার্ডিয়ান্স’এর দ্বিতীয় পর্বে তাকে ফেরানো হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তার উল্লেখ থাকবে, কিন্তু তাকে দেখা যাবে না। এবারে অন্যতম ভিলেন হতে চলেছে হাই প্রিস্টেস আয়েশা (এলিজাবেথ ডেবিকি) এবং তার দলবল ‘দ্য সভরেন্‌স’। স্টার-লর্ড এবং তার দলের সঙ্গে লড়বে এরাই।