এবার সন্ত্রাসের শিকার জার্মানির মিউনিখ। আজ শহরের অলিম্পিক্স স্টেডিয়ামের কাছে ‘মিউনিখ অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারে’ বন্দুকবাজের হামলায় অন্তত ৯জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা অন্তত ১০। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 
মিউনিখ পুলিশের পক্ষ থেকে আজ অলিম্পিক্স পার্কের কাছে ওই শপিং মলে বন্দুকবাজের গুলি চালানোর কথা জানানো হলেও এর পিছনে কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের হাত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। মিউনিখ পুলিশের সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে, হামলাকারীর সংখ্যা তিন। জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলের এই শহরের পুলিশবাহিনীর টুইটার হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, ‘ওইজেড শপিং সেন্টার (ওই শপিং মল এই নামেই পরিচিত) ঘিরে বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে’। অভিযানে যোগ দিয়েছে সন্ত্রাসদমনে প্রশিক্ষিত জার্মান পুলিশ কম্যান্ডো। 
পুলিশ সূত্রের খবর, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ এক বন্দুকবাজ প্রথমে মলের ভিতরে একটি রেস্তোরাঁয় ঢুকে গুলি চালাতে শুরু করে। এর পরে ভিতর থেকেও গুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশবাহিনী শলিং মল ঘিরে ফেললেও খোঁজ চালাচ্ছে বন্দুকবাজদের। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পাওয়া খবর, এখনও কোনও বন্দুকবাজের খোঁজ মেলেনি। গুলির শব্দ শুনে ছুটে বাইরে আসা এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় টিভি চ্যানেলকে বলেন, ‘‘কয়েকজনকে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়তে দেখেছি আমি।’’ শপিং মলের ভিতর লুকিয়ে থাকা এক মলকর্মী সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে ফোনে বলেন, ‘‘আমার চোখের সামনে একটি দেহ পড়ে রয়েছে।’’ 
জার্মানির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী থমাস দ্য মেইজার জানান, হামলাকারীদের খোঁজে পুরো এলাকায় সতর্কতা জারি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে কাউকে বাড়ির বাইরে না বেরনোরও নির্দেশ জারি করা হয়। এরই মধ্যে অসমর্থিত সূত্রে মিউনিখ শহরের একটি মেট্রো স্টেশনের কাছেও গুলি চালানোর খবর মেলে। 
মিউনিখের এই অঞ্চলেই ১৯৭২ সালের অলিম্পিক্সের সময় হামলা চালিয়েছিল প্যালেস্তিনীয় জঙ্গি সংগঠন ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’। হামলায় ১১ জন ইজরায়েলি অ্যাথলিট এবং কোচ নিহত হয়েছিলেন। গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছিল পাঁচ জঙ্গি এবং একজন জার্মান (তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি) পুলিশ অফিসারের। 
প্রসঙ্গত, গত তিনদিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার নাশকতার শিকার হল জার্মানি। গত সোমবার জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাভারিয়ায় এক শরণার্থী আফগান কিশোর কুড়ুল এবং ছুরি নিয়ে হামলা চালালে পাঁচজন যাত্রী আহত হন। পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হয় ওই কিশোরও। তার কাছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের একটি পতাকা মিলেছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়। আজ মেইজার জানান, ওই কিশোরের কোনও সঙ্গী ছিল না। গত মার্চ মাসে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেল্‌সে জোড়়া জঙ্গি হামলায় দু’জন জঙ্গি-সহ ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত ১৪ জুলাই ফ্রান্সের নিস শহরে বাস্তিল দিবসের অনুষ্ঠানে এক জঙ্গির লরি নিয়ে হামলায় ৮৪ জন নিহত হয়েছিলেন।