দয়া বা দাক্ষিণ্য নয়। প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে গিয়ে মেহনতের রোজগারে বেঁচে থাকা। এমনকী, সংসার প্রতিপালনও। মিলেছে কেক তৈরির প্রশিক্ষণ। আর তাতেই আমূল বদলে গিয়েছে বেহালার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ছয় প্রতিবন্ধীর জীবন।
উত্তরণের নেপথ্যে রয়েছে লড়াইয়ের ইতিহাস। একে অনাথ। তার উপর প্রতিবন্ধী। রাজু দাস, অশোক ছেত্রী, সুমন গোস্বামীরা প্রত্যেকেই ভাবতেন, সারা জীবন অনুকম্পার পাত্র হয়ে থাকলে চলবে না। নিজেদের গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে। স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন বাপি দাস, পিঙ্কু দাস, সঞ্জয় সরকারেরাও। স্বপ্ন ছিল। বিশ্বাস ছিল। উপায় ছিল না। সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে নগেন্দ্রকুমার মিত্র বলেন, ‘‘ওই ছ’জনই আমাদের হোমে থাকতেন। প্রত্যেকেই জানান, তাঁরা কাজ করতে ইচ্ছুক। এরপরই কেক তৈরি ভাবনা মাথায় আসে।’’


কেন হঠাৎ কেক তৈরির ভাবনা? নগেন্দ্রকুমার জানিয়েছেন, প্রথমে রেস্তোরাঁর কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত বদল করা হয়। কারণ, রেস্তোরাঁ চালানোর চেয়ে কেক তৈরি অপেক্ষাকৃত সহজ। ২০১২ সালে যখন এই ভাবনাচিন্তা চলছে, তখনই হঠাৎ ফ্রান্সের একাধিক রেস্তেরাঁর মালিক অ্যালেন কোজোঁর সঙ্গে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যোগাযোগ হয়। তাঁর পরামর্শ এবং আর্থিক সহায়তায় টানা প্রশিক্ষণের পর ২০১৩ সালে কেক তৈরি শুরু হয়।
বর্তমানে শহরের একাধিক ক্যাফেতে নানা ধরনের কেক সরবরাহ করে ওই সংস্থা। সারাটা দিন মজা করেই কাজ করেন রাজু, অশোক, সুমন, বাপিরা। তাঁদের মধ্যে কেউ দক্ষ মিক্সিংয়ে। কেউ বা আবার প্যাকেজিংয়ে দড়। প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, মাসের শেষে বেতন পেলে মন ভরে যায় খুশিতে। 

আরও পড়ুন:—

কোলে চড়েই উচ্চামাধ্যমিকের উচ্চতায়, লাল্টু তাক লাগালেন রেজাল্টে

দু’হাতে ভর করে চিনের এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরছেন এক বাবা। কেন জানেন?


সঞ্জয় এখন আর হোমে থাকেন না। বিয়ে করার পর বউকে নিয়ে আলাদা বা়ড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি। স়ঞ্জয় জানালেন, দিনের শেষে বাড়ি ফিরে এক বছরের সন্তানের মুখে হাসি দেখলে অতীতের সব তিক্ততা ভুলে যান তিনি। আর রাজুর কথায়, ‘‘মাইনে পাওয়ার পর বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ঘুরতে যাই। খাওয়াদাওয়া করি।’’
সংস্থার তরফে সোমনাথ সর্দার বলেন, ‘‘এখনও অনেক পথ যেতে হবে। আমরা বিজ্ঞাপন করি না। তাই বছরভর চাহিদা থাকে না।’’ 
সমস্যা আছে। কিন্তু তাতে ভাটা পড়েনি আন্তরিকতায়। কেকের গন্ধে ডানা মেলেছে স্বপ্নউড়ান।