পাকিস্তানের সরকারি সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অফ পাকিস্তান বা এপিপি-র দফতরেই এবার ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হলেন এক হিন্দু সাংবাদিক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ওই সাংবাদিকের ছোঁয়াচ এড়িয়ে চলছেন দফতরের অন্যান্য কর্মীরা।

সাহিব খান ওয়াদ, এপিপি-র করাচি অফিসের অন্যতম সিনিয়র একজন সাংবাদিক। তাঁর নাম মুসলিমদের মতো শোনালেও আসলে তিনি হিন্দু। তাঁর নাম শুনে অফিসে তাঁর সহকর্মীরাও তাঁকে মুসলিম বলেই ভাবতেন। পাকিস্তানের একটি প্রথমসারির দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহিব দাবি করেছেন, কয়েকদিন আগে ছেলে রাজ কুমার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে অফিসে আসেন। ছেলের নাম শুনেই অফিসের সহকর্মীরা জানতে পারেন, যে সাহিব মুসলিম নন। অভিযোগ, এরপরেই তাঁর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করেন তাঁর সহকর্মীরা। খাবার এবং জল খাওয়ার জন্য আলাদা বাসন এবং জলের গ্লাস আনতে বলা হয় তাঁকে। এমনকী, ইফতারের সময়ে অন্যান্য সহকর্মীদের ডাইনিং টেবিলে তাঁকে বসতেও বারণ করা হয়। তিনি অন্যান্য কর্মীদের জন্য রাখা জলের গ্লাস ব্যবহার করলে অনেকের আপত্তি আছে বলে খোদ ব্যুরো চিফ তাঁকে জানান, বলে দাবি করেছেন ওই সাংবাদিক। সেই মতো তিনি নিজের জন্য আলাদা গ্লাস এবং প্লেটও কিনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাহিব।

ঘটনার কথা জানাজানি হতেই পাকিস্তানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে এপিপি-র দফতরে খোঁজ নেওয়া হলে ব্যুরো চিফ দাবি করেন, জ্বর হওয়াতেই সাহিবকে আলাদা জলের গ্লাস এবং বাসন ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল। বৈষম্যমূলক ব্যবহারের অভিযোগও উড়িয়ে দেন এপিপি-র করাচি অফিসের ব্যুরো চিফ। তবে, অভিযোগ পাওয়ার পরে এপিপি-র পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি স্তরেও বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। একজন উচ্চশিক্ষিত সাংবাদিক পাকিস্তানে এই ধরনের ব্যবহারের শিকার হওয়ায় পাকিস্তানে বসবাসকারী অন্যান্য সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।