ঐতিহাসিক জেলা মুর্শিদাবাদ, যার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জানা অজানা নানা ইতিহাস। কোথাও আবার চোখের আড়ালেই রয়ে গিয়েছে ইতিহাস। ইতিহাসের পাতায় স্থান না পাওয়া তেমনই এক জায়গা মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের রানি ভবানীর ঝিল।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

জিয়াগঞ্জ থানার একদম শেষ প্রান্তে রয়েছে এই ঝিলটি। বর্তমানে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। কথিত, ১৭৭৬ সালে দুর্ভিক্ষের সময়ে রানি ভবানীর স্বামী মারা যান। সেই সময়ে পানীয় জলেরও আকাল দেখা দেয় রাজত্বে। প্রজাদের কথা ভেবে রানি ভবানী বড়নগর মৌজায়, প্রায় ৮১ বিঘা জমির উপর তৈরি করেন এই ঝিল। আর এই ঝিলের জলই পান করতেন প্রজা থেকে শুরু করে রাজ পরিবারের সদস্যরাও।

শোনা যায়, রানি ভবানী স্নান করতেন এই ঝিলেই। ঝিলের পাশেই রয়েছে একটি শিব ও শনি মন্দির।


মাছ ধরা। নিজস্ব প্রতিবেদন

নাটোরের রানি ভবানী। পূর্ব বাংলার রাজশাহীর জমিদার পরিবারের রাজা রামকান্ত রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় ভবানীর। এবং স্বামীর মৃত্যুর পরে জমিদারীর দায়িত্ব তিনিই কাঁধে তুলে নেন। প্রায় ৪০ বছর সেই দায়িত্ব সামলান দক্ষতার সঙ্গে। যে কারণে তাঁকে ‘রানি’ হিসেবেই অভিহিত করত প্রজারা।

বর্তমানে অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে ইতিহাস। নিজেদের স্বার্থে কিছু অসাধু মানুষ ঝিলের দু’ধারের বড় বড় গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। ঝিলের মাটি কেটেও বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু প্রশাসনের কোনও হেলদোলই নেই।


প্রয়োজন সংস্কারের। নিজস্ব প্রতিবেদন

ঝিল বাঁচাতে তাই আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয় কিছু বুদ্ধিজীবী মানুষ। তাঁরাই গঠন করেছেন ‘ডঃ বি আর আম্বেদকর গ্রাম উন্নয়ন ট্রাস্ট’। 
প্রায় ৩ বছর ধরে এই আন্দোলন করছেন তাঁরা। রানি ভবানী ঝিল সংস্কার করে পর্যটন শিল্পের দাবি তুলেছেন তাঁরা। 

সংগঠনের অন্যতম সদস্য পেশায় গ্রামীণ চিকিৎসক, ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অনশনেও সামিল হন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এতো কিছুর পরেও কোনও কাজ হয়নি।

স্থানীয়দের বক্তব্য