একটি আসনকে পাখির চোখ করে নেমেছিলেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ জুটি। গুজরাতে রাজ্যসভা নির্বাচনের তৃতীয় আসনে সহজ অঙ্কে জেতার কথা ছিল না বিজেপির। তবু সব শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়েছিলেন অমিত শাহ। 

কারণ সেখানে প্রার্থী হয়েছিলেন সনিয়া গাঁধীর রাজনৈতিক সচিব আহমেদ পটেল। এর আগেও গুজরাত থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন আহমেদ। কিন্তু এবার তাঁকে হারাতে উঠে পড়ে লেগেছিলেন শাহ-মোদী জুটি।

সে চেষ্টা অবশ্য ব্যর্থ হয়েছে। মুখ পুড়েছে অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদীর। দু’জন বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়কের ভোট বাতিল হওয়াতে তা নিয়ে নাটক দিল্লি পর্যন্ত গড়ায়। প্রায় পুরো মোদী ক্যাবিনেট নির্বাচন কমিশনে হত্যে দিয়েও আহমেদ পটেলের জয় আটকাতে পারেনি।

রাজ্যসভা নির্বাচনে মোদী-শাহের গেমপ্ল্যান বানচাল করে জয়ী হলেন সনিয়ার সেনাপতি আহমেদ পটেল। ছবি: পিটিআই

আসলে এটি ছিল নরেন্দ্র মোদী ও সনিয়া গাঁধীর ইগোর লড়াই। সেখানে শেষ হাসি সনিয়া হাসলেন। আহমেদ পটেলের জয়ে অবশ্য অক্সিজেন পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মোদী-বিরোধী নেতা-নেত্রীরা।

সকালে তো তিনি টুইট করেছিলেনই আহমেদ পটেলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে। বুধবার নতুন উদ্যমে মেদিনীপুর থেকে ‘বিজেপি ভারত-ছাড়ো’ আন্দোলনের সূচনা করতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘‘কাল গুজরাতে আপনারা দেখেছেন সারা রাত ধরে গণতন্ত্র বনাম একনায়কতন্ত্রের খেলা চলেছে। আমরা খুশি গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে।’’

মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়ে নোটবাতিল ও জিএসটির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘মানুষকে আজ বন্দুকের দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আর এজেন্সির সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। চাবুক চলছে চাবুক। গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র চলছে। এ জিনিস চলতে পারে না। এর শেষ দেখে ছাড়ব।’’

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

প্রেস্টিজের লড়াই লড়তে গিয়ে কংগ্রেস ভাঙিয়ে নিয়ে আসা বলবন্তসিন রাজপুতকে প্রার্থী করেও জেতাতে পারেননি অমিত শাহ। বরং বিজেপিরই ঘর ভেঙেছেন আহমেদ পটেল। তিনি দাবি করেন, ‘‘এটি আমার জীবনের কঠিনতম লড়াই ছিল। সরকার আমার পিছনে আইবি-কেও লাগিয়ে দিয়েছিল।’’

কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকার, বিজেপি সভাপতি খাস গুজরাত থেকে আবার তিনি নিজে রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী— সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সনিয়ার রাজনৈতিক সচিবের জয় বিরোধীদের মনোবল বাড়িয়েছে। 

তবে বিজেপির দাবি, এই নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী আহমেদ পটেলকে না হারাতে পারলেও, আসলে কংগ্রেসের মুখোশ খুলে গিয়েছে। যে আহমেদ পটেল বার বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছেন, তাঁকেই কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে ফেলা গিয়েছে। কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দলও সামনে চলে এসেছে।

রাহুল গাঁধীকে কেন মঙ্গলবার সারাদিন দেখা গেল না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিজেপি নেতারা। মোদী সরকারের উপর এই নির্বাচনের ফলাফলের কোনও প্রভাব পড়বে না।

কিন্তু যে ভাবে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ একটি রাজ্যসভা নির্বাচনকে এত বড় প্রেস্টিজ ইস্যু করে তুললেন এবং অমিত শাহের গেমপ্ল্যান কাজ করল না, তাতে আসলে বিরোধীদের নৈতিক জয় হল।