‘দি এগজরসিস্ট’ থেকে ‘দ্য কনজিউরিং’— ভূত তাড়ানোর পশ্চিমী কৌশল এই মুহূর্তে ভারতীয়দের কাছে মোটেই অচেনা নয়। ক্রস, বাইবেল, জর্ডনের পবিত্র জল— এ সব উপকরণের কথা সকলেরই জানা। প্রেতের রকমফেরে আবার উপকরণ বাড়ে-কমে।  ১৯ শতকের উপান্তে দাঁড়িয়ে ব্রাম স্টোকার রসুনের মালার কথাও লিখেছিলেন। এখান থেকে একটা প্রশ্ন জাগতেই পারে, এই এগজরসিজম পদ্ধতির কি সত্যিই কোনও বিধিবদ্ধ নিয়ম রয়েছে? নাকি পুরো ব্যাপারটাই মাম্বো-জাম্বো?

প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, প্যারানর্মালবাদীরা কিন্তু মোটেই এই সব আচার আর উপকরণকে আবোল-তাবোল বলে ভাবেন না। তাঁর পরাযুক্তিতে এ সবের একান্ত প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তারও আগে প্রশ্ন থেকে যেয়, এগজরসিজম কতটা সত্যি?

বাইবেল-এর নিউ টেস্টামেন্টে স্বয়ং প্রভু যিশুর নিজের হাতে এগজরসিজমের কথা লিখিত রয়েছে। ক্যাথলিক ধর্মে এগজরসিজম তাই প্রশ্নাতীতভাবে বাস্তব। তবে এটাও ঠিক, ক্যাথলিকরা প্রেতাত্মার চাইতে অনেক বেশি বিশ্বাসী শয়তান বা কোনও ডিমন-এর প্রভাবে। ‘দি এগজরসিস্ট’ উপন্যাস এবং সিনেমায় পাজুজু নামের যে দুষ্ট আত্মার দাপাদাপি দেখানো হয়েছিল, সে শয়তানের দোসর। বাংলায় তাকে ‘পিশাচ’ বলাই সঙ্গত হবে। প্যারনর্মালবাদীদের ধারণা, কোনও মৃতব্যক্তির আত্মার চাইতে এই ছায়াচ্ছন্ন অতিপ্রাকৃতরাই বেশি মাত্রায় প্রভাবিত করে মানুষকে। আর তাদের তাড়ানোর পদ্ধতিও কখনওই এক প্রকার নয়।

ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মের অন্যতম গাইডলাইন ‘রিতুয়েল রোমানাম’ বা ‘রেমান রিচুয়াল’-এর একাদশতম বিভাগে বর্ণিত রয়েছে এগজরসিজমের পদ্ধতি। এগজরসিস্টরাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন এই নির্দেশিকা। এই গাইডলাইন অনুযায়ী, এগজরসিজমের কিছু প্রকারভেদ রয়েছে। কোনও শিশুর উপরে প্রেতের আবেশ দূর করতে যে পদ্ধতি অনুসৃত হয়, কোনও যুবতীর ক্ষেত্রে তা অবশ্যই হয় না। প্রেতাত্মার আবেশ আর ডায়াবলিক পজেশন এক নয়। তাদের চিকিৎসা পদ্ধতিও পৃথক। ডায়াবলিক পজেশনের এগজরসিজম খুবই জটিল। অনেক সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুও ঘটে এ ক্ষেত্রে। এর উদাহরণ রয়েছে ‘এগজরসিজম অফ এমিলি রোজ’-এর মতো ছবিতে।

এত কিছুর পরে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, কতটা সত্যি এই এগজরসিজম ক্রিয়া? বৈজ্ঞানিক যুক্তি আর ধর্মীয় জগতের যুক্তি কখনওই এক পাতে বসবে না। বিজ্ঞানের যুক্তি কাঠামো দিয়ে এগজরসনিজমকে বোঝা বা বোঝানো যাবে না বলেই মনে করেন প্যারনর্মাল অ্যাক্টিভিস্টরা। স্কিৎজোফ্রেনিয়া, প্যারানইয়া ইত্যাদি সাইকো-ডিজঅর্ডার হিসেবে অনেক সময়েই চিহ্নিত করা হয় ‘অসুস্থ’-দের। কিন্তু অনেক সময়েই তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয় চিকিৎসা বিজ্ঞান। তখনই কি ছায়াময়তার শুরু? প্যারানর্মালবাদীরা নীরব থাকেন। উত্তর দেন না এ সবের।