রোগটির নাম গালভারি। ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ -এই নামটির সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণ মানুষের পরিচয় থাকার কথাও নয়। কিন্তু বাড়িতে-অফিসে-আড্ডায় আপনার চেনা অন্তত একজন আছেই যিনি অন্যকে ছোট করে মজা পান। যিনি সারাক্ষণ আপনাকে, আপনার মত ও পথকে ভুল প্রমাণ করে আনন্দ পান। আপনার মতটি বদলে ফেলার জন্যে মরিয়া হয়ে সর্বসমক্ষে আপনাকে হেয় করা থেকে শুরু করে থ্রেট, ব্ল্যাকমেল সবই করতে পারে। 

এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনি আপনার আশেপাশের সেই লোকটিকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন। হয়তো আপনার প্রিয় জীবনসঙ্গীই। হ্যাঁ এই বিশেষ চরিত্রের লোকেরা ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ এই রোগের শিকার। নিজেকে বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে, এখুনি সতর্ক হন। জানুন এই রোগের খুঁটিনাটি। বুঝে নিন, কীভাবে মোকাবিলা করবেন এই অবাঞ্ছিত উপদ্রবের।

আন্তর্জাতিক মনোশ্চিকিৎসক ডারিন ল্যান্সারের মতে, ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ অসুখের প্রধাণ উপসর্গ ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’। থেকে থেকে নিজেকে উৎকর্ষের পাহাড়ে চড়িয়ে অন্যেকে হেয় করা। এরা এমন আচরণ করেন আসলে উলটো দিকের মানুষকে ডমিনেট বা নিয়ন্ত্রণ করার তীব্র বাসনায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন আসলে নিজের হীনমন্যতাকে লুকোতেই এরা এই আত্মম্ভরী, সুপিরিয়র ইমেজ তৈরি করে রাখেন।

সাইকোলজি টুডে নামক একটি আন্তর্জাতিক ওয়েব জার্নালে ডারিন ল্যান্সার দেখিয়েছেন এই ধরনের মানুষজনের সঙ্গে মেশার সময় আমরা প্রায়ই এই ভুলগুলো করে ফেলি-

১. আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের ব্যখ্যা করে বোঝাতে চাই আমাদের যুক্তি-ভাবনা, এতে অপমানের, আক্রমণের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

২. অনুরোধ উপরোধেও কাজ হয় না, কেননা দু্র্বলতম জায়গায় আঘাত করা নার্সিসিস্টিক ডিসঅর্ডারের বড় লক্ষণ।

৩. নিজের সমলোচনাও এই ধরনের অ্যাবিউজাররা নিতে পারেন না।

৪. একজন অ্যাবিউজারের কাছে কখনওই কেউ পারফেক্ট হন না। ফলে অনুতাপ করেও লাভ নেই। 

সেক্ষেত্রে, কীভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে এই ধরনের সমস্যা থেকে? বিশেষজ্ঞরা বলছেনঃ

১. অ্যবিউজকে অ্যালাও করলে নিজের আত্মসম্মান নষ্ট হয়। কাজেই ওই বর্মটি তৈরি করতে হবে যাতে অ্যাবিউজার সহজে আক্রমণের সুযোগ না পান।

২. প্রয়োজনে বাউন্ডারি তৈরি করুন।

৩. যৌনতায় না করা, ব্যক্তিগত বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা সকলের মৌলিক অধিকার। এ বিষয়ে অ্যাবিউজারের লাগামছাড়া হস্তক্ষেপ মেনে নেবেন না।

৪. ‘করছি’, ‘ভেবে দেখছি’, এই ধরনের বক্তব্য এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করে। এই বাক্যগুলি আক্রমণের মুখে প্রতিরোধ হিসেবে ভাল। 

৫. কতগুলি ক্ষেত্রে সম্পর্কের শক্তি নিহিত থাকে। চেষ্টা করুন সেই দিকগুলিকে উর্বর করতে, তাহলে সম্পর্কটি বাঁচবে, অন্য মানুষটিও নিজের ভুলটি বুঝতে পারবেন।

৬. প্রয়োজন বুঝলে কাউন্সেলারের সাহায্য নিন।

আমরা সবাই দোষগুণেই গড়া। কাজেই অসুস্থ প্রিয়জনকে দূরে ঠেলে দেওয়া যায় না। আবার এও মনে রাখার, সম্পর্কটি যেন তার কাছেও মূল্যবান হয়।