যেমন রোদের তাপ, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গরম। আষাঢ় যেন চৈত্রকেও হার মানাচ্ছে। আর এই প্রবল গরম থেকে বাঁচতে গিয়েই বিপত্তি বাঁধছে। গরম থেকে বাঁচতে বেশি করে এসি-তে থাকা অথবা নাগাড়ে ঠান্ডা জল খাওয়া, এসবই বিপদ ডেকে আনছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা, জ্বর, গলাব্যাথায় কাহিল হয়ে পড়ছেন অনেকেই। সাধারণ মানুষের কাছে যা পরিচিত ভাইরাল ফিভার হিসাবে। আর এর জন্য আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপানাকেই দায়ী করছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন—
• গরমে কষ্ট হলেও, গরম থেকে হঠাৎ এসি-তে ঢুকে পড়া অথবা এসি-র ঠান্ডা থেকে বারবার বাইরের গরমে আসা চলবে না।
• বাইরে থেকে এলে আগে শরীরকে ঘরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওযার সময় দিন। গায়ে ঘাম থাকলে ঘাম শুকিয়ে তারপরে স্নান করুন।
•  শরীর ঠান্ডা রাখতে বারবার স্নান করলেও ক্ষতি নেই।
• একইভাবে রোদ থেকে এসেই খুব ঠান্ডা জলও এড়িয়ে চলুন।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন এই ধরনের জ্বরের মেয়াদ পাঁচ থেকে সাতদিন। তার মধ্যে প্রথম দু’-তিন ১০১, ১০২ জ্বরও অস্বাভাবিক নয়। চিকিৎসক তপন কুমার মুখোপাধ্যায়ের জানাচ্ছেন—
• এই ধরনের জ্বরে উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসা করতে হবে। জ্বর হলে বিশ্রাম নিতেই হবে। • সংক্রমণ এড়াতে ভিড়ে যাওয়া চলবে না। জ্বর হলে বেশি করে জল এবং সরবৎ জাতীয় পানীয় খেতে হবে।
• জ্বরের সঙ্গে গায়ে ব্যাথা থাকলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ এবং কাশি থাকলে অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে অ্যান্টি-বায়োটিক খাওয়া চলবে না।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় শিশু এবং বয়স্কদেরই বেশি করে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ভাইরাল ফিভারে অবশ্য সব ধরনের মানুষই আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে, অসময়ের প্রবল গরমে কষ্ট হলেও সতর্ক থাকাই ভাল।