আইস ক্রিমের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ— এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কেউ মজে থাকে স্ট্রবেরিতে, কেউ পছন্দ করে ভ্যানিলা। ফ্লেবারের তারতম্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে আইসক্রিমের রকমও। তা সে যাই হোক, ছোট করে বলতে গেলে— আইসক্রিম, অল্পবিস্তর সকলেরই বেশ প্রিয়। আর বাচ্চাদের কথা আলাদা করে নাই বা বললাম। কিন্তু, নিষেধাজ্ঞা তাদের উপরেই সর্বাধিক!

বেশি আইসক্রিম খেলে শরীর খারাপের সঙ্গে সঙ্গে দাঁতের অবস্থাও যে বিগড়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ছোট ছোট অবুঝ মন কি আর তা মানতে চায়! মায়ের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে দাদু-দিম্মার কাছে বায়না করলেই তো মাঝেসাঝে পাওয়া যায় চকোলেট আইসক্রিম বা ব্ল্যাক কারেন্ট। কিন্তু সদ্য প্রকাশিত এক খবর অনুযায়ী, এবার হয়তো মা-বাবারা প্রতিদিনই তাঁদের সন্তানদের এক স্কুপ করে আইসক্রিম দেবেন ব্রেকফাস্টে। কী সেই খবর?

টোকিওর কায়োরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়োশিকো কোগার কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা করে জানিয়েছেন যে, সকালে খাবারের পাতে যদি বাচ্চারা আইসক্রিম খায়, তাহলে তাদের ‘ব্রেন অ্যাক্টিভিটি’ অন্য বাচ্চাদের তুলনায় অনেক বেশি। প্রফেসর কোগার প্রথমে মনে করেছিলেন, সকাল সকাল ‘ঠান্ডা’ খাওয়ার জন্য এই প্রতিক্রিয়া। তাই কয়েকটি বাচ্চাকে সাধারণ ঠান্ডা জল খাওয়ানো হয়। কিন্তু তাতে আইসক্রিম খাওয়ার মতো প্রতিক্রিয়া হয়নি। এক নামী নিউট্রিশনিস্টের মতে, আউসক্রিম খাওয়ার পরে ব্রেনের অ্যাক্টিভিটি বেড়ে যাওয়ার কারণ, গ্লুকোজের সঙ্গে নানা নিউট্রিয়েন্টস থাকে এতে। তা ছাড়া, সকাল সকাল মনের মতো জিনিসটি খেলে মন ভাল হয়ে যাওয়ারই কথা। আর যার মন ভাল, তার মাথাও কাজ করবে ভাল। 

ছোট্ট বন্ধুদের তাই বলে আনন্দের কোনও কারণ নেই! নিউট্রিশনিস্টদের মতে, ব্রেন যতই ‘অ্যাক্টিভ’ হোক, ব্রেকফাস্টে আইসক্রিম নৈব নৈব চ। তাঁদের রেকমেন্ডেশন— কম মিষ্টির সিরিয়াল, টোস্ট, ডিম, নানা রকম ফল।