বড় সার্টিফিকেট পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনেকটাই স্বস্তি পেল কেন্দ্রীয় সরকার। নোটবাতিল ও জিএসটি চালু নিয়ে দেশে যখন বিরোধীরা কেন্দ্রকে কোণঠাসা করে চলেছে তখন আন্তর্জাতিক মানিটরি ফান্ডের কর্তা মোদীর পাশে দাঁড়ালেন।

গুজরাত বিধানসভায় শেষ পর্যন্ত জয় পেলেও বিজেপি গোটা নির্বাচন পর্ব নোটবাতিল ও জিএসটি ইস্যুতে বিতর্কের মোকাবিলা করতে হয়েছে বিজেপিকে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সমালোচনা করে চলেছেন। ঘোর বিরোধিতা চালাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতানেত্রীরা। এরই মধ্যে এল আন্তার্জাতিক মানিটরি ফান্ড (আইএমএফ) কর্তার সার্টিফিকেট।

সিএনবিসি-টিভি ১৮ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএমএফ-এর চিফ ইকনমিস্ট মরিস অবস্টফেল্ড জানিয়েছেন, নোটাবাতিল কিংবা জিএসটি চালুর ফলে সাময়িক সমস্যা হলেও দীর্ঘকালীন সুবিধা পাবে ভারত। তিনি বলেন, এখন ভারতের অর্থনীতি বৃদ্ধির গতি বাকি বিশ্বের মতো নয়। এর পিছনে প্রধান কারণ, নোটবাতিল ও জিএসটি লাগু। দু’টি নীতিই সাময়িক সঙ্কট তৈরি করলেও দীর্ঘকালীন সুবিধা দেবে।

অবস্টফেল্ড-এর দাবি, চলতি বছরে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশের আশপাশে থাকলেও আগামী বছরে তা ৭.৪ শতাংশের কাছাকাছি চলে যাবে। ভারতে যে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হয়েছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পেয়ে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি ৮ শতাংশেও পৌছে যেতে পারে। 

আইএমএফ কর্তা মরিস অবস্টফেল্ড টিভি সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, নোটবাতিলের পরে পরে যে সমস্যা শুরু হয়েছিল তা এখন আর নেই। পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া গিয়েছে। জিএসটির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হবে। আগামী বছর থেকেই সুফল মিলবে। পরবর্তী আর্থিক বছর থেকেই ধীর ধীরে অর্থনৈতিক উন্নতি শুরু হবে।

নরেন্দ্র মোদী যে কথা বলছেন, ঠিক সেই সুরই শোনা গিয়েছে আইএমএফ-এর প্রধান অর্ধনীতিবিদের গলায়। নরেন্দ্র মোদী নোটবাতিল পর্বের পর থেকে বার বার দেশে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর উপরে জোর দিয়ে চলেছেন। একই কথা বলেছেন অবস্টফেল্ড। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের প্রশাংসা করে তিনি বলেছেন, কেন্দ্রের নীতিতে দেশের অর্থনীতি উন্নততর জায়গায় পৌঁছবে।