জিকা একটি মশাবাহিত ভাইরাস, যা বহন করে এডিস প্রজাতির মশা। এই মুহূর্তে লাতিন আমেরিকার দেশগুলি সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এই রোগে। এই ভাইরাস থেকে সবচেয়ে বেশি বিপদ গর্ভস্থ শিশুদের। এর আক্রমণে বিকল মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করে শিশুরা। 

১৯৪৭ সালে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হলেও গত বছরের আগে পশ্চিম গোলার্ধে দেখা যায়নি এই রোগের আক্রমণ। বরং পঞ্চাশের দশকে ভারত আক্রান্ত হয়েছিল এই রোগে। এই মুহূর্তে পৃথিবীর ২০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। সাম্প্রতিক কালে যে সমস্ত দেশে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা গিয়েছে, সেখানে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা সন্ধান করার নির্দেশ দিয়েছে ‘হু’। 

যেহেতু জিকা এবং ডেঙ্গি—এই দুই রোগই এডিস প্রজাতির মশা দ্বারা বাহিত, তাই ভারতে জিকা ভাইরাসের উপস্থিতির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এডিস প্রজাতির মশাগুলি অতি দ্রুত ক্রান্তীয় দেশগুলিতে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। উষ্ণ ক্রান্তীয় জলবায়ু এই মশা এবং ভাইরাসের বাড়বাড়ন্তের পক্ষে আদর্শ।

তাই ইতিমধ্যেই তৎপর ভারত। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে তৈরি করা হচ্ছে এই ভাইরাসের টেস্টিং কিট। এছাড়া দেশজুড়ে সদ্যোজাত শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখারও পরিকল্পনা চলছে। কোনও রকম বৈকল্য চোখ পড়লে সেখানে জিকা-র প্রকোপ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।