ছোট্ট মেয়েটির কাহিনি জানলে মনে পড়ে যাবে অর্জুন-পুত্র অভিমন্যুর কথা। মহাভারতের যুদ্ধ তখনও শুরুই হয়নি। অভিমন্যু ছিলেন মায়ের গর্ভে। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ জানতেন যে, অর্জুনের এই বীর পুত্রই কুরু-পাণ্ডবদের যুদ্ধের মোড় ঘোরাবে। তাই সুভদ্রাকে তিনি বুঝিয়েছিলেন চক্রব্যূহে প্রবেশের কৌশল। মায়ের গর্ভ থেকেই তা শুনেছিলেন অভিমন্যু। 

পাঁচ বছরের চেরুকুরি ডলি শিবানিও যেন অভিমন্যু। তার জন্ম তখনও হয়নি, যখন তার বাবা সত্যনারায়ণ সিদ্ধান্ত নেন যে, তাঁর সন্তান তিরন্দাজ হবে।


অনুশীলনে চলেছে ছোট্ট তীরন্দাজ। ছবি সৌজন্য— ইউটিউব

প্রসঙ্গত, সত্যনারায়ণ নিজে ‘ভোলগা আর্চার অ্যাকাডেমি’-র চেয়ারম্যান। আন্তর্জাতিক স্তরের বেশ কয়েকজন তিরন্দাজকে তিনি নিজে হাতে শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর ভাই, চেরুকুরি লেনিন ছিলেন আন্তর্জাতিক স্তরের তিরন্দাজ ও প্রশিক্ষক। ২০১০ সালে, এক পথ দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ছোট্ট ডলির জন্মের আগেই, তার বাবা ৩০টি ছোট্ট ধনুক নিয়ে এসেছিলেন পোল্যান্ড থেকে। এবং তিন বছর বয়সের আগেই ডলি নিজেই তার তির-ধনুক নিয়ে ‘ওয়ার্ম-আপ’ করা শুরু করে। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

মাত্র তিন বছর বয়সেই তিরন্দাজিতে ২০০ পয়েন্ট করে, সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় তিরন্দাজ হিসেবে স্বীকৃতি পায় ডলি। এবং কয়েক দিন আগেই, পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়েটির নাম স্থান করে নেয় ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ ও ‘এশিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এ।

গর্বিত বাবা সত্যনারায়ণ সংবাদমাধ্যমকে জানেয়েছেন যে, ডলি একেবারে ‘প্রফেশনাল’দের মতো প্র্যাকটিস করে। এবং তার কোচ, চন্দ্রশেখরের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। 

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অলিম্পিক্সের জন্য এখন থেকেই তৈরি হচ্ছে ছোট্ট এই ‘অভিমন্যু’।

দেখুন ছোট্ট ডলির প্রস্তুতি—