ভারতীয় বোর্ডে প্রশাসকদের টালমাটাল অবস্থা। কতটা বে আব্রু দশা ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের, তা ফের একবার প্রকট অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক টাকা-বিতর্কে।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতীয় যুব দল বর্তমানে পাঁচ ম্যাচের ওডিআই সিরিজ খেলতে ব্যস্ত মুম্বইয়ে। সিরিজে ইতিমধ্যেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। শেষ ওডিআইতে নামার আগে অবশ্য অন্য বিতর্ক তাড়া করল রাহুল দ্রাবিড়ের প্রশিক্ষণাধীন ভারতীয় দলকে।

আর্থিক টানাপোড়েনে আপাতত ব্যতিব্যস্ত ঈষাণ কিষাণ, ঋষভ পন্থরা। দৈনিক ‘মজুরি’টুকুও পাচ্ছেন না ভারতীয় ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা। পকেটে টান পড়ায় হোটেলে পছন্দের খাবারও পাতে পাচ্ছেন না ভারতীয় যুব ক্রিকেটাররা।

কিন্তু বিশ্বের সবথেকে ধনী ক্রিকেট বোর্ডের এই দশা কেন? জানা গিয়েছে, গত মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুরাগ ঠাকুর-অজয় শিরকেদের নির্বাসনে পাঠানোর পর বর্তমানে বোর্ডে কোনও সরকারি দস্তখতকারী নেই। ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের আর্থিক পাওনা মেটানোর জন্য যার সই প্রয়োজন তিনি-ই না থাকায় প্লেয়াররা চেক পাচ্ছেন না।

অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে উঠেছে যে যাতায়াত, খাওয়া-খরচ বাবদ প্রাত্যহিক খরচ নিজেদের পকেট থেকেই মেটাতে হচ্ছে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রত্যেককে। অনেকের আবার পকেট-মানি শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের লোকজনের পাঠানোর টাকার জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হচ্ছে।

বোর্ডের এক কর্তা জানালেন, ‘সিরিজ শেষ হওয়ার পরই ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের সমস্ত খরচ মিটিয়ে দেওয়া হবে।’ এমনিতে যে হোটেলে ক্রিকেটাররা থাকেন, সেখানে একটা মিল ফ্রি’তে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। পাশাপাশি খাওয়ার বাকি খরচ জোগায় সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট সংস্থা। তবে ক্রিকেটাররা বলছেন, মুম্বইয়ের যে পশ হোটেলে তাঁদের রাখা হয়েছে, সেখানে মিলের দাম অত্যধিক চড়া। এক প্লেট স্যান্ডুইচের দামই ১৫০০ টাকা।

এমন অবস্থা প্রকাশ্যে আসার পর বিসিসিআইয়ের চার সদস্যের কমিটির প্রধান বিনোদ রাই বোর্ডের সিইও রাহুল জহুরিকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত আর্থিক বিষযের দেখভাল করার জন্য।