দশ বছরের মেয়েটার শরীরে উপরের অংশ আস্তে আস্তে ডানদিকে বেঁকে যাচ্ছিল। পরীক্ষা করে ধরা পড়ল মেয়েটির শিরদাঁড়াটাই আস্তে আস্তে ডানদিকে বেঁকে যাচ্ছে। আফ্রিকার জিবুটির বাসিন্দা দশ বছরের সেই ছোট্ট মেয়েটি অবশ্য মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারের পরে এখন সম্পুর্ণ সুস্থ।

শিরদাঁড়া বেঁকে যাওয়ার জেরে মেয়েটির উচ্চতাও বাড়ছিল না। অস্ত্রোপচারের পরে মেয়েটির উচ্চতা ১২৩ সেন্টিমিটার থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪০ সেন্টিমিটার। তিন বছর আগেই মেয়েটির বাবা-মা তাঁর শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। শিরদাঁড়া বেঁকতে শুরু করায় মেয়েটি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারত না। একটু দৌড়ঝাঁপ করলেই শ্বাস নিতে কষ্ট হত তাঁর। চিকিৎসা পরিভাষায় শিরদাঁড়ার এই অস্বাভাবিক বাঁক নেওয়াকে থোরাকলুম্বার স্কোলিওসিস বলা হয়।

এই একই রোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় ওই পরিবারের চল্লিশ বছর বয়সি এক আত্মীয়ার মৃত্যু হওয়ায় মেয়েটির বাবা-মার চিন্তা আরও বেড়ে যায়। মেয়েকে বাঁচাতে ভারতে আসেন তাঁরা।

যদিও ভারতের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল জটিল এই অস্ত্রোপচার করতে রাজি হয়নি। এক্স-রে রিপোর্টে দেখা যায়, মেয়েটির শিরদাঁড়া প্রায় ১২৫ ডিগ্রি বেঁকে গিয়েছিল। যাঁর জেরে সামনের দিকেও মেয়েটির শরীর অনেকটা ঝুঁকে পড়েছিল।চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এইভাবে থাকলে মেয়েটি খুব বেশি হলে ৪০ বছর বাঁচত। কারণ, শিরদাঁড়া বেঁকে যাওয়ায় তাঁর হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসও স্বাভাবিকভাবে কাজ করত না।

ফুসফুস এবং হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকভাবে কাজ না করায় অস্ত্রপচার যথেষ্ট জটিল ছিল। তার উপরে মেয়েটির হৃৎপিণ্ডে একটি ছিদ্রও ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের মধ্যেই মেয়েটির সংঞ্জা ফিরিয়ে একটি বিশেষ পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল। সেই জন্য মেয়েটিকে শোনানোর জন্য বাবাকে দিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশিকা রেকর্ড করা হয়।

শেষ পর্যন্ত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ, সার্জন, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গড়া একটি বিশেষ দল মুম্বাইয়ের স্যার এইচ.এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে মেয়েটির অস্ত্রোপচার করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের মাঝে মেয়েটিকে জাগানো হয়। যদিও সে কোনও যন্ত্রণা অনুভব করেনি। বাবার রেকর্ড করা নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁকে যা করতে বলা হয়, সে ঠিক তাই করে।

অস্ত্রোপচার পরবর্তী জটিলতার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি রাখা থাকলেও ভালয় ভালয় সব মিটেছে। হাসিমুখেই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বাবা-মা’র সঙ্গে জিবুটায় ফিরতে চলেছে সে।