কয়েকদিন আগেই মহারাষ্ট্রের এক বিজেপি সাংসদ নানা পাটোলে প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কারও কথাই শুনতে চান না। প্রশ্ন করলেই তিনি রেগে যান। 

এবার আর কোনও সাংসদ নন, অটলবিহারী বাজেপেয়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা যশবন্ত সিন্‌হা মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলীর বিরুদ্ধে।

মূলতঃ দেশের অর্থনীতি কেমন ভাবে ভেঙে পড়ছে সেই বিষয়েই তিনি একটি লম্বা প্রবন্ধ লিখেছেন একটি সর্বভারতীয় দৈনিকে।

যশবন্ত লিখেছেন, ‘‘অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনীতির কী জগাখিচুড়ি অবস্থা করেছেন, সে সম্বন্ধে এখন মুখ না খুললে আমি জাতীয় কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হব। কারণ বিজেপি-র মধ্যেই অনেকে এটা ভাবছে কিন্তু ভয়ে কথা বলতে পারছে না।’’

নোটবাতিল অর্থনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে এবং জিএসটি এত বাজে ভাবে চালু করা হয়েছে যে, তাতে প্রচুর লোক কাজ হারিয়েছেন এবং শিল্পক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন যশবন্ত।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

তাঁর অভিযোগের তালিকা আরও দীর্ঘ। যশবন্তের মতে, দেশে দু’দশকের মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ সবচেয়ে কম, শিল্প উৎপাদন ভেঙে পড়েছে, কৃষিতে মন্দা, যে নির্মাণ শিল্পে প্রচুর লোকে কাজ পায়, সেই নির্মাণ শিল্পে ভাটা, পরিষেবা ক্ষেত্র ধীর গতিতে চলছে, রফতানি ক্ষীণ গতিতে চলছে।

এ সবের জন্য অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলীকে দায়ী করেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, জেটলী অর্থমন্ত্রকে পুরো সময় দিতেই পারছেন না।

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতেও ছাড়েননি তিনি। লোকসভা ভোটে না জিততে পেরেও কীভাবে মোদীর ক্যাবিনেটে তিনি জায়গা পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যশবন্ত। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘‘প্রধানমন্ত্রী উদ্বিগ্ন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী ও আমলাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গিয়েছে।’’

আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হবে না বলেই মন্তব্য করেছেন যশবন্ত। তাঁর দাবি, ‘‘প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন তিনি দারিদ্র খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এবার অর্থমন্ত্রী দিনরাত কাজ করছেন যাতে ভারতবাসীও একইরকম কাছ থেকে দারিদ্রকে দেখতে পারেন।’’

তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন যশবন্ত।