কারোর বয়স চোদ্দ, কারোর ষোলো। চোখে অপার স্বপ্ন ভবিষ্যতে ডানা মেলার! লেখাপড়ায় প্রত্যেকেই চৌখস! নামি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের হেলায় ‘চ্যালেঞ্জ’ জানাতে ওরা প্রস্তুত! তবে এখানেই বিধি বাম। স্বয়ং জীবনই যে তাদের কাছে প্রতিদিন নতুন নতুন ‘চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে হাজির হয়।

আসলে প্রত্যেক কিশোরীই সমাজের তথাকথিত প্রান্তিক শ্রেণি থেকে আগত। কারোর বাস নোংরা ঘিঞ্জি বস্তিতে, কেউ দিনের শেষে আশ্রয় খুঁজে নেয় রেলস্টেশনে। তবে লেখাপড়ায় অদম্য ইচ্ছেশক্তিতে প্রত্যেকেই আপাতত একই ব্র্যাকেটে।

তবে তাদের জীবনের স্বপ্নে এখনই ফুলস্টপ পড়ছে না। কার্যত নিরাশ্রয়, পরিবার-পরিজনহীন এই কিশোরীদের বাঁচার প্রেরণা জোগাতে এবার হাজির ‘হোপ ফাউন্ডেশন’ নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। খুঁজে খুঁজে সমাজের পিছিয়ে থাকা কিশোরীদের মুখে হাসি ফোটাতে হাজির এই সংস্থা। একশোজন ছাত্রীর হাতে এই সংস্থার পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হচ্ছে বাঁচার ‘চাবিকাঠি’।

বেশ কিছু স্পনসরের সহযোগিতায় লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য বার্ষিক ২৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে প্রত্যেক কিশোরীর হাতে। পুরো বিষয়টিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য দক্ষিণ কলকাতার উপকণ্ঠে চলতি মাসের ১০ তারিখে একটি অনুষ্ঠানে রি-ইউনিয়ন ঘটছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া স্পনসরদের।

আয়ারল্যান্ড থেকে কিছু সহৃদয় ব্যক্তিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এই মহান উদ্যোগের জন্য। সেখানে নির্দিষ্ট দিনে সকালে একটি প্রদর্শনী গলফ খেলবেন আয়ারল্যান্ড থেকে আগত অতিথিরা। সন্ধ্যায় হবে তারকা সমাবেশ। দুঃস্থ ছাত্রীদের উৎসাহ যোগাতে হাজির থাকবেন খোদ ১৯৬৪-র অলিম্পিকে হকিতে সোনাজয়ী কিংবদন্তি গুরবক্স সিংহ। আইরিশ ও ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার এমকে জালান এবং ব্রুস বাকনেলের উপস্থিতি দেখবে টলি ক্লাবের তারকাখচিত অনুষ্ঠান। হাজির থাকছেন টলিউড ও বলিউডের বেশ কিছু সেলেব্রিটিও।

শুধু শহরের বিভিন্ন নামীদামি স্পনসর ছাড়াও দুঃস্থ কিশোরীদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছে কামারহাটি ও চাঁপদানি পুরসভাও। দুই কিশোরীর পড়াশুনার আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি মিলেছে দুই পুরসভার তরফে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে অমৃতা চক্রবর্তী জানালেন, ‘‘বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা সংগ্রহ করে সরাসরি ছাত্রীদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। ছাত্রীদের বিদ্যালয়, শিক্ষকদের কাছে সরাসরি টাকা তুলে দেওয়া হবে।’’ কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানালেন, ‘‘গরিব অভিভাবকদের হাতে টাকা তুলে অনেকক্ষেত্রেই সাংসারিক ক্ষেত্রে টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই ব্যবস্থা।’’

দুঃস্থ কিশোরীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে বেনজির দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ‘হোপ ফাউন্ডেশন’।