বিজ্ঞান পড়ে বিশ্বজয় করে ফেলব, এমন একটা হাবভাব নিয়ে বড় হয়ে ওঠার কারণে খুব বেশি সাহিত্য চর্চা করা হয়ে ওঠেনি, কিন্তু অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে বারে বারে, তাই খাতা কলম নিয়ে বসা যাওয়া মাঝেমধ্যে। 
 
এতদিন বেশ কিছু লিখেছি, রাজনীতি থেকে রম্যরচনা, সামাজিক থেকে কাল্পনিক কাহিনি কিন্তু আজ লিখব এমন এক মানুষের কথা, যিনি আমাদের নতুন করে আরও একবার স্বপ্ন দেখাবেন, শুধু স্বপ্ন দেখা নয় স্বপ্ন কে ছুঁয়ে দেখার সাহসটাও আমরা অর্জন করব নতুন করে। আর ক্রমাগত সামাজিক আর মানসিক অবক্ষয়ের এই দিনকালে স্বপ্ন দেখাটা ভীষণভাবে জরুরি।
  
যিনি এই স্বপ্ন দেখাবেন, সাহস জোগাবেন তাঁর স্বপ্নাভিযানে সামিল হওয়ার আগে দু’একটা কথা আমায় বলতে হবে। আর পাঁচজন বাঙালির মতো রবি ঠাকুর, সত্যজিৎ রায় কিংবা বিভূতিভূষণবাবুর সৃষ্টি কোনও না কোনও চরিত্র আমাকেও ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে কৈশোরথেকেই। বয়স তখন সবে তেরো কি চোদ্দ, এক রোববার বিকেলে দূরদর্শনে সত্যজিৎবাবুর ‘আগন্তুক’ সিনেমাটি দেখেছিলাম। সেই প্রথম ভবঘুরে, বোহেমিয়ান ঘর ছেড়ে পৃথিবী দেখতে বেড়িয়ে পড়া বিশ্বপর্যটক মনমোহন মিত্রের সঙ্গে আমার পরিচয়। মনমোহন মিত্রের চরিত্রে গায়ে কাঁটা দেওয়া অভিনয় করেছিলেন দক্ষ অভিনেতা উৎপল দত্ত। ‘তেয়োর’ সেদিনের সেই অপরিণত মস্তিষ্কও আমায় ভাবিয়েছিলো বেশ অনেকক্ষণ। মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস মুখস্থ ছেড়ে মন হারিয়ে গিয়েছিল বোহেমিয়ান মনমোহন মিত্রের ঘুরে বেড়ানোর কল্পনায়। মনে হয়েছিল, কী ভাবে এক মেধাবী ছাত্র নিজের নিশ্চিত ভবিষ্যৎকে অগ্রাহ্য করে, নিজের ঘর-বাড়ি, বাবা মা আর কাছের মানুষগুলোকে ছেড়ে পৃথিবীকে নিজের মতো করে দেখবেন বলে বেরিয়ে পড়তে পারেন? মনে হয়েছিলো কোথা থেকে সাহস পান গতানুগতিক নিশ্চিত জীবনের হাতছানিকে বুড়ো আঙুল দেখানোর? 
     
অনেক ভেবেছি, মনের মতো উত্তর পাইনি। সত্যি কথা বলতে কী, পরে আরও একটু বড় হয়ে কোথাও গিয়ে হালকা একটা হিংসেও হয়েছিল হয়তো সত্যজিৎবাবুর   সৃষ্টি করা মনমোহন মিত্র চরিত্রটির উপরে। কারণ, নিজের মতো করে জীবন কাটানোর সৌভাগ্য সবার হয় না যে!  যাই হোক সেই ‘তেয়ো’ বছরের মাথায় ঘোরা অনেক প্রশ্নের উত্তর আজ আমি পেয়েছি। কারণ, আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে ‘মনমোহন মিত্র’ র থুড়ি বিশ্বপর্যটক সোমেন দেবনাথের। এখন তিনি উত্তর আমেরিকায়। তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয় উত্তর আমেরিকার ফ্লোরিডা রাজ্যের ট্যাম্পা শহরে। 
  
এই বিশ্বপর্যটকের বোহেমিয়ান দুঃসাহসিক রোমাঞ্চকর জীবনের গল্প কিংবা কখনও আফগানিস্তানের হেরাতে তালিবানদের হাতে কিডন্যাপ হওয়ার ঘটনা তাঁকে বিভিন্ন সংবাদপত্রের পাতায় তুলে এনেছে এর আগে বেশ কয়েক বার। এইচআইভি/ এইডস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্যে আর ভারতীয় সংস্কৃতিকে পৃথিবীর প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর যাত্রা শুরু মাত্র বছর কুড়ি বয়সে।


আফ্রিকায়, সিংহের সঙ্গে। ছবি: লেখকের সৌজন্য

 আর পাঁচটা বাঙালি ছেলের মতো এই ছেলেটিও ছেলেবেলায় বাবার কিনে আনা সাইকেলে ঘুরে বেড়াতেন তাঁর জন্মস্থান সুন্দরবনের বাসন্তী গ্রামে। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যে সাইকেলে ঘুরে বেড়ানো ছেলেটি আজ সেই দু’চাকা সাইকেলে চড়েই একরাশ স্বপ্ন, অদম্য জেদ আর একরাশ সাহসকে সম্বল করে পৃথিবীর প্রতিটি কোনায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কখনও আফ্রিকার ভয়ঙ্কর জঙ্গল তো কখনও মাইনাস ৫০-এর গ্রিনল্যান্ড। এইচআইভি-তে আক্রান্ত মানুষের যন্ত্রণা ১৪ বছর বয়সি ছেলেটির মনকে ভীষণ ভাবে নাড়িয়েছিল, ঠিক তার পর থেকে এইচআইভি নির্মূলীকরণ প্রকল্পে সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এর পর কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে জুলজি নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন এবং পরে ফাইন আর্টসে মাস্টার্স করে তিনি বেরিয়ে পড়লেন পৃথিবী দেখতে ২০০৪ সালে। সঙ্গে নিলেন সাইকেল আর দু’চোখে রাখলেন ১৯১ দেশের মাটিকে ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন, ২০ মিলিয়ন মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার স্বপ্ন, ২০০,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার লক্ষ্য ২০২০ সালের মধ্যে।      

১৪ বছর ঘরে না ফেরা মানুষটি এখন রয়েছেন ফ্লোরিডায় আর ঘটনাক্রমে আমিও কিছুদিনের জন্যে আমার বর্তমান বাসস্থান নিউ জার্সি ছেড়ে ফ্লোরিডা গিয়েছিলাম। তাই বিশ্বপর্যটকের সাথে দেখা করার লোভটা সামলাতে পারলাম না মশাই, আর একটা ছোট্ট ইন্টারভিউ নেওয়ার সুযোগ সোনায় সোহাগা হয়ে গেল।   

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

নিয়মমাফিক চলাটা ব্যক্তিগত ভাবে আমার অপছন্দ, তাই তথাকথিত  নিয়মমাফিক প্রশ্ন-উত্তরের সাক্ষাৎকারও আমার পছন্দ নয়। তাই ঠিক করেছিলাম, যেটা ইচ্ছে করবে সেটাই জিজ্ঞ্যেস করব, যেটুকু সময় পাব। 

ইন্টারভিউ শুরুর আগে নিয়মমাফিক ‘হাই-হ্যালো’ পর্বেই তিনি ‘নমস্তে’ উচ্চারণ করে এই ‘মেরিকা’-র মাটিতে ভারতীয় সুবাস ছড়িয়ে দিলেন। শুরু হলো আমাদের কথপোকথন পর্ব। 


• ১৪ বছর ঘরছাড়া, আজ পৃথিবীর এত প্রান্ত ঘুরে, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এত মানুষের কাছাকাছি এসে  ঠিক কিরকম লাগে আপনার ?  

নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবান মনে করি। আমরা অনেক সময় না চাইলেও নিজেদের গতানুগতিক জীবনটাকে মেনে নি , একটু অন্যভাবে জীবনটাকে চাইলেও সেটা পাওয়া হয় না সব সময়ে। আমি যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই স্বপ্নকে ছুঁতে পেরে সত্যি ভাগ্যবান আমি। 
  
• ২০০৪ থেকে ২০১৮ , এই দীর্ঘ ১৪ বছরে একবারও বাড়ি ফিরেছেন ?   

কিছুদিন আগে বাবা মারা গিয়েছেন, তাই ১২ দিনের জন্যে দেশে ফিরেছিলাম। কিছু নিয়মকানুন পালন করার জন্যে। কঠিন সময়ে বিবেকানন্দের কথাগুলি মনে করি, তিনি বলেছিলেন  ‘Arise! awake ! and do not stop until the goal is reached’।  
(কথাগুলি বলার সময়ে তাঁর চোখ-মুখ ওঁর সমস্ত অনুভূতিগুলিকে ভীষণভাবে প্রকাশ করছিল। তাই আমি আমার ঠিক পরবর্তী প্রশ্নটা আর ওঁকে করে উঠতে পারলাম না। ভেবেছিলাম জিজ্ঞেস করবো ‘বাড়ি কে মিস করেন’? কিন্তু কিছু কিছু প্রশ্নের নিঃশব্দ উত্তর শুনতে পাওয়া যায়!)

      
দেশ তাঁর হৃদয়ে সারাক্ষণ। ছবি: লেখকের সৌজন্যে

• জীবনটাকে একটু অন্যভাবে দেখতে চাওয়া, তার পর ১৪ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে প্রতিরোধ করে পৃথিবীর বিভিন্ন দুর্গম প্রান্তে একটি দু’চাকা সাইকেল সম্বল করে পৌঁছে যাওয়া, এই সব কিছুর অনুপ্রেরণা পান কোথা থেকে? 
  
জীবনে ‘আমার আমি’-টা যদি লক্ষ্যে অবিচল থাকে, ডেডিকেশন থাকে, জয় আসবেই। চলার পথে অনেক কিছু হারাতে হবে, অনেক কিছু দূরে চলে যাবে, কিন্তু নিজের স্বপ্নকে সত্যি করে তুলতে চাইলে নিজের ১০০ পার্সেন্ট ডেডিকেশন দিতে হবে, নিজের উপর বিশ্বাসটা রাখতে হবে। বিবেকানন্দ বলেছিলেন ‘You can not believe in God until you believe in yourself'।                    
   
• আপনার জীবনে বিবেকানন্দের প্রভাব কতটা, সেটা কিছুটা হলেও অনুমান করতে পারছি। এখন তো আপনি উত্তর আমেরিকায়, শিকাগো যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে? 

হ্যাঁ, ফ্লোরিডা শেষ করে ওয়াশিংটন, ফিলাডেলফিয়া, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক হয়ে কানাডার দিকে চলে যাব। তার পর ওদিকটা কিছুটা কভার করে শিকাগোর দিকে ফিরব। রবি ঠাকুর বলেছিলেন ‘If you want to know India, study Vivekananda’। ওই মানুষটি এত বছর আগে যে পথ দেখিয়ে গিয়েছেন, তা আমাকে প্রতিনিয়ত শক্তি যোগায়, উদ্বুদ্ধ  করে। 
    
• কখনও আপনাকে আফগানিস্তানে তালিবানদের হাতে টানা ২৪ দিন কিডন্যাপড হয়ে অন্ধকার ঘরে বন্দি হয়ে থাকতে হয়েছে, মারধর পর্যন্ত সহ্য করতে হয়েছে , কখনও মাইনাস ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় মাসের পর মাস থাকতে হয়েছে, এইসব প্রতিকূলতাকে কী ভাবে সামলান আপনি? জীবনের প্রতিটা চ্যালেঞ্জকে কী ভাবে গ্রহণ করেন?   

জীবনে কোনও কাজ করতে গেলে বাধা-বিপত্তি এলেই বুঝবে, তুমি ঠিক দিকে এগোচ্ছ। এমনও হয়েছে, চলার পথে অনেক বার চুরি-ডাকাতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, যেখানে আমার সর্বস্ব হারাতে হয়েছে। কিন্তু আজ এই গোটা পৃথিবীই আমার পরিবার আর পৃথিবীর মানুষ আমার পরিবারের মানুষ। ( স্মিত হেসে চরম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিলেন।)

• আপনার এই যাত্রাপথের সমস্ত খরচের পরিমাণ বেশ অনেকটাই। তারপর এতগুলি দেশের ভিসা, পাসপোর্ট জোগাড় করার পুরোটাই বেশ অনেকটাই জটিল বিষয়।  বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ কারোর কাছে?  
  
হ্যাঁ, আমি প্রতিটি ভারতীয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ, যাঁরা আমাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন। আর আমি কৃতজ্ঞ ভারতীয় দূতাবাসের কাছে, যারা সবসময় আমার পাশে থেকেছে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে। আর আমি ধন্যবাদ জানাই পৃথিবীর সেই সমস্ত মানুষের কাছে, যাঁরা আমার চলার পথে সব সময়ে পাশে থেকেছেন।  

• আপনি যে স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন, আজ এতটা পথ পেরিয়ে কতটা সফল আপনি?    

আজ যখন বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছই, ভারতীয় সংস্কৃতিকে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাই, যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারি, তখন মনে হয়, মানুষের জন্যে কিছু করতে পারছি আমার নিজের মতো করে। পৃথিবী জুড়ে চলা এইচআইভি এইডস প্রতিরোধ কর্মসূচি প্রকল্পে যৎসামান্য কাজ করতে পেরেছি, করার চেষ্টা করেছি। পৃথিবীর যত দেশে গেছি, সব জায়গায় একটি করে গাছ রোপণ করে এসেছি। অদ্ভুত একটা ভালোলাগার অনুভূতি আসে।    

 • পুরো ভারতবর্ষ ঘুরেছেন প্রথমেই। তার পর পাকিস্তান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্খমেনিস্তান, কজাখস্তান, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, অষ্ট্রিয়া, ম্যাসিডোনিয়া, গ্রিস, ইতালি, নর্থ পোল, সাউথ পোল, আফ্রিকা, আরও কত কত দেশ ঘুরে আপনি আজ আপনি উত্তর আমেরিকার ফ্লোরিডা রাজ্যে। এই যাত্রাপথে অজস্র শিহরণ জাগানো অভিজ্ঞতা, অজস্র ভাললাগা আছে আপনার। তার মধ্যে আপনার বিশেষ কিছু ভাললাগা যদি শেয়ার করেন...
   
বিশেষ ভালোলাগার মধ্যে আফ্রিকার কিলিমানজারোতে কাটানো দিন কিংবা গ্রিনল্যান্ডে মাইনাস ৫০ ডিগ্রির মধ্যে যে বিস্ময়কর সুমেরু প্রভা দেখেছি, তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এস্কিমোদের সঙ্গে কিংবা আফ্রিকায় মাসাইদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলো ভীষণ ভাললাগার। 
(মনে মনে ভাবলাম ঠাকুরদার কোল ঘেঁষে শোনা বিভূতিভূষণবাবুর ‘শঙ্কর’ আমার সামনে বসে আছে, অদ্ভুত একটা থ্রিলিং ব্যাপার অনুভব করলাম।) 


তাঁর ভ্রমণ নিছক ‘বেড়ানো’ নয়। ছবি: লেখকের সৌজন্যে

• এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই, বাঙালি খাবার মিস করেন ?  

বাঙালি খাবারের প্রতি একটা ভাললাগা থাকেই। তবে আমি ভারতবর্ষের ২৮টি রাজ্যের ২৮ রকম খাবারের স্বাদ নিয়েছি। পৃথিবীর যে ১৫০টি দেশে ঘুরেছি, সব দেশের খাবার আমি উপভোগ করেছি। 

• ২০২০ তে আপনার এই জার্নি শেষ, এরপর দেশে ফিরে আপনার পরিকল্পনা কি ? 

আর ৪১টি দেশে যাওয়া বাকি। তার পর আমি দেশে ফিরে মানুষের জন্যে কাজ করতে চাই। সমস্ত দেশ থেকে আমি মাটি সংগ্রহ করেছি, সেই মাটি দিয়ে একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ বানাতে চাই, যার দরজা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পৃথিবীর সব দেশের সমস্ত মানুষের জন্যে খোলা থাকবে।
  
• এখনও আমার অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করছে। তবে আপাতত সময় শেষ, তাই একটা শেষ প্রশ্ন করতে চাই। আপনি প্রায় পুরো পৃথিবীটা দেখেছেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছাকাছি এসেছেন, এখন যদি পরজন্ম বলে কিছু থাকে, আপনি কোন দেশে, কোন ধর্ম নিয়ে জন্মাতে চান? জানি না প্রশ্নটা কতটা প্রাসঙ্গিক, তবু একজন বিশ্বপর্যটককে এই প্রশ্নটা করার লোভ সামলাতে পারলাম না।   

আমার একটাই ধর্ম মানবধর্ম। আমি মানুষের মধ্যে জন্মাতে চাই। আমি এই পৃথিবীতে জন্মাতে চাই।  

ইন্টারভিউ শেষে ফেরার পথে গাড়িতে আমার পাশে বসা বন্ধুটির সঙ্গে কোনও কথা না বলে শুধুই ভাবছিলাম অনেক কিছু। আজ পৃথিবী জুড়ে এত ধর্ম নিয়ে মারামারি, হিংসে, তার মাঝে একটি মানুষ কত অবলীলায় বলে দিলেন ‘ আমি মানবধর্ম নিয়ে মানুষের মধ্যে এই পৃথিবীতে জন্মাতে চাই’!
    
ওহ্, আর একটা কথা। এটা না লিখলে আমরা হাতের আঙুলগুলো শান্তি পাবে না। আজ আমরা, কিছু বাঙালিরা বেশ বাংলা ভাষাটাকে ভুলে যাওয়ার ‘অহংকার’ নিয়ে শার্টের কলার তোলা শুরু করেছি, কিন্তু এই ভদ্রলোক শিখিয়ে দিলেন প্রায় এক যুগ বাংলার বাইরে থেকেও, অসংখ্য জাতি-ধর্ম-ভাষা র মধ্যে মিশে গেলেও নিজের মাতৃভাষাকে চাইলে নিজের করে রাখা যায়। 

ধন্যবাদ সোমেন দেবনাথ।