চিরাচরিত ভাবনা ভেঙে বাঙালি ব্যবসা করছে তাহলে?
রাজ্যে হোক, কিংবা রাজ্যের বাইরে— বাঙালি কী পরিমাণ ব্যবসা করছে, বললে বিশ্বাস করবেন না! কিন্তু তাঁরা প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। এর পিছনে নানা কারণ থাকতে পারে। 

অঁতপ্রনর কথাটা তো এখন প্রায় গ্ল্যামার কোশেন্টে পরিণত হয়ে গিয়েছে!  
(হেসে) একদমই তাই! ব্যবসায়ী এবং অঁতপ্রনরের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এটাই অনেকে বোঝেন না। অঁতপ্রনর হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর ব্যবসার মডেলটা একেবারে আলাদা। অনেক বাঙালি অঁতপ্রনর ব্যবসা শুরু করলেও, তা টিকিয়ে রাখতে পারছে না। ঝুঁকি নিয়ে একটা ব্যবসা শুরু করাটা বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু প্রতিযোগিতার বাজারে ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখাটাই আসল চ্যালেঞ্জ!

এক্ষেত্রে কি বাঙালির ‘কাঁকড়া’ ফ্যাক্টরটাও কাজ করে?
হ্যাঁ, করে তো! একটা ছেলে বা মেয়ের ব্যবসা শুরু করার কয়েক বছর পর যখন তাঁর হ্যান্ড-হোল্ডিংয়ের প্রয়োজন হয়, তখন কেউ এগিয়ে আসতে চান না। কলকাতার বাইরে কিন্তু অনেকেই নতুন অঁতপ্রনরদের হাত ধরার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।

ভার্চুয়াল গেম নিয়ে ব্যবসা শুরু করার ভাবনাটা এল কীভাবে?
আমি আগরপাড়ার ছেলে। বাবা কর্পোরেট সংস্থার উচ্চপদে ছিলেন। বাবার মুখে দেশ-বিদেশের অনেক ব্যবসায়ীর গল্প শুনতাম। সেই থেকেই ধারণা হয়, ব্যবসা ছাড়া কোনও দেশ মহান হতে পারে না। ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকাটা ছিল আমার শখ। কমিক্‌স আঁকা এবং লেখা ছিল আমার প্যাশন।

তারপর?
কার্টুন সিরিজ স্কেচ করে যখন ব্যবসা শুরু করি, তখনে সকলে হাসাহাসি করতেন। আগরপাড়া থেকে টালিগঞ্জের স্টুডিওর বাইরে হাতে ফ্লিপবুক নিয়ে বসে থাকতাম। পরিচালকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য। বাচ্চা ছেলে দেখে অনেকেই পাত্তা দিতেন না। জয়েন্টে সুযোগ পেয়েও পড়িনি। অর্থনীতি নিয়ে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল, ব্যবসা করতে গেলে ইকনমিক্স নিয়ে পড়াটা জরুরি। তারপর কম্পিউটার অ্যাসেম্বলের কাজ শুরু করি। বিভিন্ন কোম্পানির হয়ে সফ্‌টওয়্যারও বানিয়েছি। রোজগারের জন্য ছাত্র পড়িয়েছি, পুজোও করেছি (হাসি)।

মারণ খেলা ‘মোমো’ এখন খবরের শিরোনামে। এতে নির্মাতাদের লাভ কোথায় বলতে পারেন?
‘মোমো’র মতো খেলার পিছনে কত টাকার লগ্নি আছে ভাবতে পারবেন না। বিশ্বের অনেক ধনকুবেরের বিচিত্র সব শখ রয়েছে। কারও মৃত্যু দেখে তাঁরা আনন্দ পান। সেই মানুষগুলো ‘ব্লু হোয়েল’, ‘মোমো’র মতো গেম ডেভেলপারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা টার্গেটও ঠিক করে দেন, যে অমুক বাচ্চা বা কিশোরটিকে হত্যা করতে হবে। কতদিনের মধ্যে সেই বাচ্চাটাকে মারা যাচ্ছে, সেটা নিয়েও একাধিক ধনকুবেরের মধ্যে বেটিং চলে। প্রশাসন যতই চেষ্টা করুক, এই খেলা বন্ধ করা যাবে না। সতর্ক হতে হবে সাধারণ মানুষকে।

কীভাবে?
বাবা-মায়েদের সতর্ক হতে হবে। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির জমানায় সকলেই নিজের চাকরি বাঁচাতে ব্যস্ত। যতই ব্যস্ততা থাকুক, বাচ্চাকে সময় দিন। খেয়াল রাখুন, যাতে আপনার সন্তান অনলাইন গেম না খেলে। ওই গেমগুলোয় ‘মোমো’র ব্ল্যাকমেল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।