• গত বছর দিল্লিতে এসেছিলেন। এবার এলেন মুম্বইয়ে। কেমন লাগছে?
ইট্‌স বিন ফেনোমেনাল! এদেশের প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই ডব্লিউডব্লিউই’র ফ্যান রয়েছে, এই বিষয়টাই আমার সবচেয়ে ভাল লাগে! আর ভারতে এলে এত ভালবাসা পাই, যে বলে বোঝাতে পারব না। খুব আনন্দ হচ্ছে! এখানকার খাবারও আমার খুব প্রিয়। পেশার প্রয়োজনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেতে হয়। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমার টেস্ট করা বিশ্বের সেরা কিছু পদের নাম করলে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটা ভারতীয় পদ তো থাকবেই।

• এদেশে ডব্লিউডব্লিউই’র জনপ্রিয়তা নিয়ে কেমন অভিজ্ঞতা?
জনপ্রিয়তা কতটা সেটা আগেরবার এসেই বুঝতে পেরেছিলাম। বিশ্বের বহু দেশে গিয়েছি, কিন্তু ভারতে এসে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি, তা মনে রাখার মতো। সকলে এগিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন। সেটা দেখেই বুঝতে পারি, সাধারণ মানুষের মধ্যে ডব্লিউডব্লিউই’র জনপ্রিয়তা কতটা। রেস্‌লম্যানিয়ার কথা আপনি নিশ্চয়ই জানেন। অবাক হবেন, পৃথিবীর যে ক’টা দেশে রেস্‌লম্যানিয়ার দর্শক সবচেয়ে বেশি, ভারত তার মধ্যে অন্যতম। গত মাসে তো ভারতে একটা ডব্লিউডব্লিউই শপও খুলেছে। 

• পেশাদার রেসলিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নিলেন কেন? 
বছর আটেক আগে ডব্লিউডব্লিউই’র সুযোগটা হঠাৎই চলে এসেছিল। জেভিয়ার্স এবং কোফি কিংগস্টনের মতো রেসলারের সঙ্গে টিম করে রিংয়ে নামার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেরিয়ারে এর চেয়ে ভাল আর কী-ই বা হতে পারত! স্কুল-কলেজে পড়ার সময় ফুটবল খেলতাম। হাইস্কুল স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে রেসলিংও করেছি। জীবনে এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম, যেখানে শারীরিক কসরত করার জায়গা থাকবে। ডব্লিউডব্লিউই ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই বলেন, আমি নাকি একটু বেশিই মিডিয়া ফ্রেন্ডলি। মানুষের সঙ্গে মিশতে আমার ভাল লাগে, এটাই অনেকে বোঝেন না। সকলের প্রত্যাশা রিংয়ে আমাকে আগ্রাসী করে তোলে।

• ডব্লিউডব্লিউই তারকাদের ট্রেনিং প্রক্রিয়াটা কেমন?
আপনি যদি ডব্লিউডব্লিউই তারকা হতে চান, ইউ মাস্ট গেট দ্য বেস্ট শেপ অফ ইওর বডি। যে কোনও রেসলারের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ট্রেনিং। তবে এটাও ঠিক, আমাদের যে ধরনের ট্রেনিং করতে হয়, সেই রকম ব্যবস্থা রয়েছে এমন জিম পাওয়াটাও সমস্যা। যে কোনও মূল্যে আমাদের শরীরের কার্ভ ধরে রাখতে হয়। ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি পারফরম্যান্সের খুঁটিনাটিগুলোও শিখতে হয়। পারফরম্যান্স লেভেলটা কখনওই যাতে খারাপ না হয়ে যায়, সেটা মাথায় রাখতে হয়।

• অনেকেই বলেন ডব্লিউডব্লিউই নাকি পুরোটাই ‘ফেক’ রেসলিং?
ডব্লিউডব্লিউই ইজ লাইক আইপিএল মিট্‌স বলিউড। দু’টো সেরা প্রডাক্ট একসঙ্গে মিলে গেলে যে মিশ্রণটা তৈরি হয়, সেটাই ডব্লিউডব্লিউই। পৃথিবীর অন্যতম সেরা অ্যাথলিটরা ডব্লিউডব্লিউই’তে অবিশ্বাস্য স্টান্ট পারফর্ম করেন। ডব্লিউডব্লিউই হল স্পোর্টস এনটারটেনমেন্ট। খেলার ছলে দর্শককে বিনোদন উপহার দেওয়াই তো আমাদের কাজ।

• আপনার ফিটনেস রেজিম কেমন?
আমার ব্যাকগ্রাউন্ড হল পাওয়ার লিফ্টিং। তাই ট্রেনিংয়ের পুরোটাই ওয়েট লিফ্টিংকে কেন্দ্রে রেখেই করি। সপ্তাহে চার থেকে পাঁচদিন ২০ মিনিটের জন্য আমাদের রিংয়ে যেতে হয়। সেই অনুসারে শরীরচর্চা করতে হয়। ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি কার্ডিও করি নিয়মিত। আর সপ্তাহে চারদিন পুরোদস্তুর ওয়েট ট্রেনিং অভ্যাস করি। 

• আপনি তো ভারতীয় ডব্লিউডব্লিউই তারকা গ্রেট খালির সঙ্গেও লড়াই করেছেন। অভিজ্ঞতা কেমন?
খালি ইজ ম্যাসিভ! সাধারণ ডব্লিউডব্লিউই তারকারা খালির বুকের কাছে পড়ে। এতই লম্বা ও! যদিও ২০১৪ সালে খালি ডব্লিউডব্লিউই ছেড়ে দিয়েছে। ওর সময়ের অন্যতম সেরা অ্যাথলিট ছিল খালি। রিংয়ের বাইরে খুব হাসিখুশি থাকত ও। খুব মজাও করত। সেই কারণে এখনও ডব্লিউডব্লিউই ইউনিভার্স ওকে মিস্‌ করে। গায়ের জোরে হারানোটা মুশকিল ছিল। সাত ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার খালিকে নাগালে পাওয়াটাই ছিল আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ওকে হারানোর সেরা উপায় ছিল, ওর পায়ে আক্রমণ করা। যাতে ও কাবু হয়ে পড়ে।

• এখনও অবধি আপনার সবচেয়ে কঠিন লড়াইটা কার সঙ্গে ছিল?
(একটু ভেবে) সিজারোর সঙ্গে। ও সেদিন ট্যাগ টিমে ছিল। লড়াই করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এছাড়াও সিজারো এবং শেমাসের টিমের বিরুদ্ধেও একবার রিংয়ে নামতে হয়েছিল। রিংয়ে নামলেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে সিজারো। আইপিএল কেমন লাগে আপনার? আপনি তো সম্প্রতি ‘এক্সট্রা ইনিংস’এর আসরেও গিয়েছিলেন। পেশায় রেসলার হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে আমার পরিচয়টা ছোটবেলা থেকেই। আমার জন্ম জামাইকায়। ছোটবেলায় বাবাকে ক্রিকেট খেলতে দেখেছি। সেই থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আমার একটা আলাদা একটা দুর্বলতা তৈরি হয়ে গিয়েছে। আর আইপিএলের তো আমি ফ্যান হয়ে গিয়েছি! 

• এবারের আইপিএলে আপনার পছন্দের দল কোনটা?
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ইজ মাই টিম।

• অনেক ভারতীয় রেসলারই তো এখন ডব্লিউডব্লিউই’এর রিং কাঁপাচ্ছেন। কীভাবে দেখছেন বিষয়টা?
ভারতে ডব্লিউডব্লিউই’র একটা বিশাল বাজার রয়েছে। পাশাপাশি, এখানে ডব্লিউডব্লিউই’র ফ্যানবেসটাও বিরাট। সম্প্রতি দুবাইয়ে ডব্লিউডব্লিউই’র তরফে ১০ জন ভারতীয় রেসলারকে নিয়ে একটা ইভেন্ট আয়োজিত হয়েছিল। ধীরে ধীরে ডব্লিউডব্লিউই বুঝতে পেরেছে, ভারতের বাজারটাকেও তাদের ধরতে হবে। ভারতীয় রেসলারদের মধ্যে জিন্দর মহল খুব ভাল পারফর্ম করছে। ওর মধ্যে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ান হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, লাভপ্রীতও ‘এনএক্সটি’তে ভাল করছে। যাই হোক, পুরো বিষয়টা নিয়ে আমি আশাবাদী।