প্রথম দর্শনেই প্রেম। তার পরে গলে যাওয়া। ‘প্রেমে জল হয়ে যাও গলে’— রজনীকান্তের সেই বিখ্যাত গানটি গাইতে গাইতে ক্রমশ হ্যাপিলি এভার আফটারের দিকে চলে যাওয়া। এর নামই স্বপ্নজীবন। কিন্তু স্বপ্ন তো আর বাস্তব নয়! সত্যিই কি প্রথম দর্শনে ‘প্রেম’ হতে পারে? আরও বিস্তারিত ভাবে বললে, প্রথম দর্শনে যা হয়ে থাকে দু’টি মানুষের মধ্যে, তাকে কি আদৌ প্রেম বলে ডাকা যায়?

উপরের প্রশ্নটির দার্শনিক উত্তর যা-ই হোক না কেন, বৈজ্ঞানিক উত্তরটি কিন্তু তেমন উৎসাহব্যঞ্জক নয়। প্রথম দর্শনে সত্যিই প্রেমে পড়া যায় কি না, তাই নিয়ে রীতিমতো গবেষণায় রত হয়েছিল নেদারল্যান্ডস-এর গ্রোনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যাচ্ছে, ৩৯৬ জন ডাচ ও জার্মান ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে গবেষকরা তাঁদের একটি প্রশ্নমালার উত্তর দিতে বলেন। প্রশ্নগুলি ছিল তাঁদের সাম্প্রতিক সম্পর্কগত অবস্থান নিয়ে। সেই সঙ্গে ছিল এমন কিছু ছেলেমেয়ের ছবি, যাঁদের তাঁরা আগে কখনও দেখেননি।

এই ছবিগুলি দেখিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বলা হয় তাঁদের কেমন লাগছে। তাঁরা কি কোনও আকর্ষণ অনুভব করছেন? কেমন সেই আকর্ষণের চরিত্র? প্রেম? প্যাশন? দায়বদ্ধ হওয়ার ইচ্ছে? নাকি একেবারেই শরীরী বাসনা জেগে উঠছে তাঁদের? সর্বোপরি তাঁদের বলা হয়, কারোকে দেখে ‘প্রথম দর্শনে প্রেম’-এর অনুভূতি হচ্ছে কি না, তা জানাতে। এর পরে ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ‘স্পিড ডেটিং’-এর ব্যবস্থা। ২০ অথবা ৯০ মিনিট সময়ের মধ্যে জোড়ায় জোড়ায় তাদের একত্রে থাকতে দেওয়া হয় এবং তার পরে জিজ্ঞেস করা হয়, তারা পরস্পরের প্রতি কতটা আকর্ষণ বোধ করেছে। 

এই সমীক্ষা থেকে একটা কথাই উঠে এসেছে— ‘প্রথম দর্শনে প্রেম’ ব্যাপারটাই অসত্য। বরং একে ‘প্রথম দর্শনে বাসনা’ বলে চালানো যেতে পারে। সমীক্ষা চলাকালীন ৩২ জন পুরুষ অংশগ্রহণকারী দাবি করেন, ৪৯ বার তাঁরা প্রথম দর্শনে প্রেমে পড়েছেন। এবং তা অনেক সময়েই ঘটেছে অন্যজনের ফোটো দেখে। কিন্তু অন্যপক্ষ থেকে কোনও সাড়া তাঁরা পাননি। কেমন ছিল এই একতরফা প্রেম? তাঁরা এর উত্তরে যা জানিয়েছেন, তা এই প্রকার— এই একতরফা প্রেমগুলি ছিল একান্ত ভাবেই শরীরী আকর্ষণে ভরপুর। 

গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘প্রথম দর্শনে প্রেম’ বলে যাকে ডাকা হচ্ছে, তা যদি আক্ষরিক অর্থেই তাই হয়ে থাকে, তা হলে তা থেকে প্রেমে পড়া সম্ভব নয়।। তা কেবল শরীরী আকর্ষণেই আবদ্ধ থাকে। তাঁদের এই মত, সেই প্রাচীন মতকেই সমর্থন করল— প্রেমে পড়তে হলে চাই খানিকটা সময়। যা থেকে জানা ও শোনা ক্রমে গড়াতে পারে দায়বোধের মতো অনুভবে।