শিল্পপতি বিজয় মাল্যের দেশ ছাড়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’দের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। একই কথা বলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি। 

নয়াদিল্লিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং সেবি’র বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে আজ বৈঠক করেন জেটলি। পরে তিনি জানান, অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়লেও একে এমনভাবে উপস্থাপিত করা উচিত নয় যাতে ঋণপ্রক্রিয়াই সমস্যার মধ্যে পড়ে এবং লগ্নির অভাবে বৃদ্ধির হার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তিনি বলেছেন, ‘‘কেউ বেআইনি কাজ করলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ 
পাশাপাশি, শেয়ার এবং বন্ডের মাধ্যমে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’দের বাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহ করতে দেওয়া হবে না বলে সেবি’র বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই ধরনের ব্যক্তি কোনও নথিভুক্ত সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণের জায়গায় থাকতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছে সেবি। প্রসঙ্গত, ২০১২ সাল থেকে বন্ধ কিংগফিশার এয়ারলাইন্সের ঋণের পরিমাণ সুদে-আসলে প্রায় ন’হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে। ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই মাল্যকে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ ঘোষণা করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য ব্যাঙ্কগুলি আবেদন জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে। তার আগেই অবশ্য দেশ ছেড়েছেন শিল্পপতি। 
এই প্রসঙ্গে সিবিআইয়ের ‘ভুল করে’ লুকআউট নোটিস জারিকেও আজ ‘অদ্ভুত’ ব্যাপার বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘সিবিআইয়ের এই ধরনের ভুল কীভাবে হয়? কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি?’’ 
এরই মধ্যে বিদেশে বসে টুইট-রিটুইটের ঝড় বইয়ে দিচ্ছেন মাল্য। আজ ‘অপছন্দে’র সংবাদমাধ্যমকে টুইট-কটাক্ষ করেছেন। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের টুইটকে রিটুইট করেছেন। কিন্তু দেশে কবে ফিরবেন সে ব্যাপারে কোনও ইঙ্গিত দেননি তিনি। শোনা যাচ্ছে, লন্ডনের অদূরে খামারবাড়িতে বসে আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন মাল্য। ইতিমধ্যেই মাল্যের সংস্থার বেশ কিছু বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। 
তবে এরই মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা জেডি (এস) নেতা এইচ ডি দেবগৌড়াকে পাশে পেয়েছেন মাল্য। দেবগৌড়ার দাবি, ‘কর্নাটকের সন্তান’ মাল্য পালিয়ে যাননি। তিনি বলেন, ‘‘সাম্প্রতিককালে সমস্ত উড়ান সংস্থাই ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় নির্দিষ্ট একজনকে নিশানা করা অনুচিত।’’ গতকাল জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাও মাল্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিরোধিতা করেন।