এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দলের সভাপতি সনিয়া গাঁধী এবং সহ-সভাপতি রাহুলের নেতৃত্বে আগামী পরশু নয়াদিল্লির তিস জানুয়ারি মার্গ থেকে মিছিল করে কংগ্রেস নেতারা রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, এর আগে জমি বিলের প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়েছিলেন সনিয়া। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রণববাবু ইতিমধ্যেই একাধিকবার সম্প্রীতি এবং ঐক্যের পথে চলার বার্তা দিয়েছেন।

তবে অসহিষ্ণুতা নিয়ে প্রতিবাদের মুখে পড়ে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই ‘অসহিষ্ণুতা’র সবচেয়ে বড় শিকার।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ভারতকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে চাইছে। কিন্তু অনেকেই বিজেপি’কে ক্ষমতায় দেখতে চাইছেন না। তাঁদের নীতিগত অসহিষ্ণুতার শিকার বিজেপি।’’ তবে দাদরি-কাণ্ডের মতো ঘটনা নিয়ে কিছুটা হলেও সুর নরম করেছেন তিনি।

দাদরি-কাণ্ডকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বললেও এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়’ বলেছেন তিনি।
দেশে অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে পুরস্কার ফেরানোর ঘটনা ‘ঠিক সিদ্ধান্ত’ নয় বলে আবার জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।

তাঁর কথায়, ‘‘যে সব বিজ্ঞানী এবং বিশিষ্টজনেরা পুরস্কার ফেরাচ্ছেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে মতামত জানাতে পারেন। সরকার তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’’

ওই বিশিষ্টজনদের ‘ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ’ বলে আগেই ব্যঙ্গ করেছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। তাদের মতে, হিন্দু ধর্ম এবং সংঘের ‘বদনাম করতেই পরিকল্পিতভাবে’ দাদরি-কাণ্ডের মতো ঘটনা সংঘটিত করা হচ্ছে।

আজ রাঁচিতে জাতীয় কর্মসমিতির তিনদিনের বৈঠক শেষে আরএসএস নেতা ভাইয়াজি জোশী বলেন, ‘‘গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন শক্তি ষড়যন্ত্র করে আরএসএসকে কিছু ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে বদনাম করছে। হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে।’’

তবে কংগ্রেসের এক নেতা এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘গত লোকসভায় বিজেপি যা ভোট পেয়েছে, তা দেখে আরএসএস ভাবছে যে, ভারতকে বদলে দেওয়া যাবে। কেউ কোনও প্রতিরোধ গড়তে পারবে না। কিন্তু সনিয়া এবং রাহুল গাঁধী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন।’’

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব কয়েকদিন আগে বৈঠক করেন। দেশজোড়া অসহিষ্ণুতা এবং হত্যার ঘটনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। 

ঘটনাচক্রে, বিহারে শেষ দফার নির্বাচনের প্রচার পরশু শেষ হচ্ছে এবং ওই দফার ভোটে সংখ্যালঘুদের ভূমিকা ‘গুরুত্বপূর্ণ’। রাজনীতির কারবারিদের একাংশের মতে, সনিয়াদের প্রস্তাবিত মিছিল সে দিকে তাকিয়েই করা হচ্ছে। যদিও কংগ্রেস এই ‘ভোট-যোগে’র কথা অস্বাকীর করেছে।