প্রথম ম্যাচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের পরেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল পর্তুগিজ কোচ নর্টন ম্যাটোসের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে। সাংবাদিক সম্মেলনেও জাতীয় দলের পর্তুগিজ কোচের বিতর্কিত মন্তব্য শোনা গিয়েছিল, ‘‘ভারতের ফুটবলে প্রতিযোগিতার সংস্কৃতিটাই নেই। আমেরিকা গত দু’মাসে ৭টা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছে, আমরা খেলিনি।’’ তাতে যারপরনাই অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন ফেডারেশনের কর্তারা।

এ বার জাতীয় দলের কোচের রণনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন জিতেন্দ্র সিংহের ফুটবল গুরু শম্ভু দাসও। খড়দহের সূর্য সেন ক্লাবে যাঁর হাতে জিতেন্দ্রর ফুটবলে ‘পায়েখড়ি’, সেই শম্ভুবাবু একরাশ ক্ষোভ নিয়ে জানিয়ে বলে দিলেন, ‘‘জিতেন্দ্রকে তো সঠিক পজিশনে খেলাচ্ছেন না কোচ।’’

অর্থাৎ একটা ম্যাচ হারের পরেই শুরু হয়ে গিয়েছে সমালোচনা। গঞ্জনা সহ্য করতে হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দেশের কোচকে। 

আসলে সূর্য সেন ক্লাবে যখন জিতেন্দ্র ফুটবল কেরিয়ার শুরু করেন, তখন তিনি খেলতেন ফরোয়ার্ডে। ক্লাবের ছেলেরা জিতেন্দ্রকে আদর করে ‘লিটল’ বলে ডাকত। পূর্বতন কোচ নিকোলাই অ্যাডামের সংসারেও জিতেন্দ্র খেলতেন ফরোয়ার্ড ও হাফে। সেখান থেকে জিতেন্দ্র-র পজিশন আমূল বদলে গিয়েছে পর্তুগিজ কোচের আমলে। প্রথমে স্টপার। আবার ম্যাচের কয়েকদিন আগে জিতেন্দ্রকে বলা হয় সাইড ব্যাকে খেলতে হবে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এখন ফেডারেশনের কড়াকড়িতে বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন জিতেন্দ্র সিংহরা। সরাসরি প্রিয় ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও যুব তারকার পরিবারের মাধ্যমে যোগাযোগ রয়েছে খড়দহ নিবাসী কোচের। তিনিই বলছিলেন, ‘‘জিতেন্দ্র দ্রুত গতির ফুটবলার। ওকে ওর পছন্দের পজিশনে খেলতে দেওয়া উচিত।’’ তবে ছাত্রের বারবার পজিশন বদলে সদর্থক ইঙ্গিতও দেখছেন তিনি।

শম্ভুবাবু বলছিলেন, ‘‘পিকে যখন কোচ ছিলেন তখন অমিত ভদ্রকে সব পজিশনে খেলাতেন অলরাউন্ড দক্ষতার জন্য। হরমনজ্যোৎ খাবরাকেও কোলাসো, মর্গ্যানরা বিভিন্ন পজিশনে খেলাতেন। জিতেন্দ্র-র কোয়ালিটির জন্যই বিভিন্ন কোচ ওকে হয়তো বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে চায়। তবে কোচের মাথায় রাখতে হবে কোন ফুটবলার কোন পজিশনে খেলতে স্বচ্ছন্দ।’’ 

প্রথম ম্যাচেই ছাত্রের ‘ভুলে’ গোল হজম করতে হয়েছিল ভারতীয় দলকে। বক্সের মধ্যে ফাউল করে বসেছিলেন মার্কিনী স্ট্রাইকার জোশ সারজেন্টকে। তবে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে পারতেন রেফারি, বলছেন শম্ভুবাবু। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যেই মুহূর্তে আমেরিকার স্ট্রাইকারকে ফাউল করা হয়েছিল, সেই সময় বল স্টপারের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। ছোটদের খেলায় প্রথম ম্যাচে পেনাল্টি না-ও দিতে পারতেন রেফারি।’’

কোচ নর্টন ম্যাতোস। — ফাইল চিত্র

সোমবারেই শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে ভারত। তার আগে প্রিয় শিষ্যকে মানসিক ভরসা জোগাতে বলে দিলেন, ‘‘নিজের ফোকাস ঠিক রাখো। অতীতের ভুল ভুলে খেলতে নাম। নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে সাফল্য আসবেই।’’

শৈশব কোচের টোটকায় সোমবার জিতেন্দ্র দেশকে গর্বের মুহূর্ত উপহার দিতে পারেন কিনা, সেটাই আপাতত দেখার।