শহিদ মিনার ময়দানে জ্যোতি বসু ও অটলবিহারী বাজপেয়ী হাত ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এই ছবি দেখিয়ে বহুবার কংগ্রেস বা তৃণমূল বোঝানোর চেষ্টা করেছে বিজেপির সঙ্গে আঁতাত আসলে সিপিএম-এরই।

সে ছিল জনমোর্চার বিজয় সমাবেশ। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহের জয়ের খুশিতে কলকাতার সভায় উপস্থিত ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী ও জ্যোতি বসু। 

কিন্তু লালকৃষ্ণ আডবাণীর আত্মজীবনীতে ‘মাই লাইফ, মাই কান্ট্রি’-তে বিজেপি নেতা দাবি করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একবার গোপনে মিটিং করেছিলেন বিজেপি নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণীর সঙ্গে। তখন কেন্দ্রে বিজেপি ও বামেদের সমর্থনে ক্ষমতায় ছিল জাতীয় ফ্রন্ট সরকার। 

কিন্তু যে কমিউনিস্টদের সঙ্গে সঙ্ঘ পরিবারের বরাবরের শত্রুতা, সেই কমিউনিস্ট দলের মুখ্যমন্ত্রী কেন বাজপেয়ী ও আডবাণীর সঙ্গে গোপন বৈঠক করলেন চাইলেন? কী এমন উদ্দেশ্য ছিল বৈঠকটির?

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

আডবাণীর লেখা অনুযায়ী, জ্যোতি বসু একজন বন্ধুর মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছিলেন এই বৈঠকটির জন্য। জাতীয় ফ্রন্ট সরকার ঠিক মতো কাজ করছে না বলেই নাকি তিনি এই বৈঠকে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।

পরবর্তীকালে যিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়েছিলেন, সেই বীরেন জে শাহের দিল্লির বাড়িতেই সেই বৈঠক হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন আডবাণী। যদিও বাজপেয়ী নাকি নিজের বাড়িতে বা আডবাণীর বাড়িতেও বৈঠক করতে রাজি ছিলেন।

অথচ জ্যোতি বসু এই বৈঠক নিয়ে সিপিএম-এর শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাতে চাননি বা এই বৈঠক নিয়ে কোনও প্রচার চাননি বলেই দাবি। 

পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন রাজ্যপাল বীরেন শাহ ও অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে জ্যোতি বসু। (ফাইল/ নিজস্ব চিত্র)

পরে জ্যোতি বসু অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে অটলবিহারী বাজপেয়ীর বৈঠক হয়েছিল। সিপিএম-এর মুখপত্রেই জ্যোতি বসুর বয়ান ছাপা হয়েছিল। 

সেখানে তিনি বলেছিলেন, এটা কোনও গোপন বৈঠক ছিল না। আডবাণী যাতে রথযাত্রা শুরু না করেন, তা নিয়েই কথা বলতে তিনি বিজেপি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেই বৈঠক তিনি দলের সঙ্গে ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহের সঙ্গে কথা বলেই করেছিলেন।

জ্যোতি বসু দু’টি বৈঠকের উল্লেখ করেছিলেন। একটি আডবাণীর বাড়িতেই হয়েছিল। ভিপি সিংহই তাঁকে আডবাণী ও বাজপেয়ীর সঙ্গে মধ্যস্থতা করে রথযাত্রা আটকাতে বলেছিলেন।

বীরেন শাহের বাড়ির বৈঠকে আডবাণী ছিলেন না বলেও দাবি করেন জ্যোতি বসু। তবু তিনি যে রথযাত্রা থামাতে পারেননি এবং সেই যাত্রায় কয়েক হাজার লোক মারা যায়, তাও স্বীকার করে নিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। 

তবে বিদেশমন্ত্রক সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে কলকাতা-ঢাকা বাস পরিষেবার উদ্বোধনে থাকার অনুমোদন না দেওয়ায় বাজপেয়ী সরকারকে ‘বর্বর ও অসভ্য’ বলেছিলেন জ্যোতি বসু। তা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ীর সঙ্গে প্রকাশ্যেই কয়েক বার বৈঠক করেছিলেন। রাজ্যের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করার জন্য। 

পরে জ্যোতিবাবু দাবি করেছিলেন তিনি বাজপেয়ীকে ‘বর্বর’ বলেননি। তাঁর আক্রমণের লক্ষ্য কোনও ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি আসলে আরএসএস-কে আক্রমণ করেছিলেন।