চিকিৎসার খরচ টানতে না পেরেই কি স্ত্রীকে খুন করলেন স্বামী! মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ গড়ফা এলাকার বিবেকনগরের একটি বাড়ি থেকে দীপা দাসের (৫৫) দেহ উদ্ধারের পরে তাঁর ছেলে শুভজিৎ বাবার বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, শুভজিৎ রাতে বাড়িতে ফিরে দেখেন দোতলায় মায়ের ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে জানলা দিয়ে শুভজিৎ দেখতে পান, দীপা বিছানায় শুয়ে আছেন। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে স্থানীয় থানায় ফোন করে বিষয়টি জানান। তারপর পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে। 
শুভজিৎ তাঁর বাবা কল্যাণ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশের কাছে শুভজিৎ দাবি করেন, বাবাই তাঁর মাকে মেরেছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার পর থেকেই কলকাতা পুরসভার কর্মী কল্যাণের কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। ঘটনায় খুনের মামলা রুজু হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। মৃতার গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে।’’
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত বছর ডিসেম্বর মাসে দীপার স্ট্রোক করেছিল। তারপর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন। সম্প্রতি, তিনি সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। হাঁটাচলাও শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে গন্ডগোল লেগেই থাকত। পুলিশ সূত্রের খবর, শুভজিৎ অভিযোগ করেছেন যে কল্যাণ প্রায়ই বলতেন, তিনি চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না। এদিন শুভজিৎ বলেন, ‘‘বাবা ছাড়া মাকে কে মারবে!’’ স্থানীয় সূত্রের খবর, ছেলে বেকার। বাবার আয়েই সংসার এবং চিকিৎসা চলত। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘ছেলে এবং বাবার মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো।’’