চাই আরও পাঁচ লক্ষ টাকা! শ্বশুরবাড়ির এহেন দাবি না মানায় কাশীপুরের গৃহবধূর কপালে যে শুধু মার জুটেছে তা-ই নয়। জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে পায়ে। এখানেও শেষ নয়। স্বামীর কাছে অভিযোগ করায় ভাসুরের শ্লীলতাহানির শিকারও হয়েছেন বছর চৌত্রিশের ওই মহিলা। 

দু’বছর ধরে এসব অত্যাচার সহ্য করেছেন। শেষে থাকতে না পেরে মঙ্গলবার ফুলবাগান থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, কাশীপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়ি হলেও বাপেরবাড়ি মানিকতলায়। আপাতত সেখানেই রয়েছেন তিনি। ‘এবেলা’কে তিনি জানান, তাঁর উপর সাম্প্রতিক অত্যাচারের ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে। পুলিশ জানিয়েছে, নিগৃহীতার অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ (শ্লীলতাহানি) নম্বর ধারা-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

নিগৃহীতার বয়ান অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই মহিলার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল কাশীপুরের ব্যবসায়ী পরিবারের এক যুবকের। বিয়ের ‘যৌতুকে’র ফর্দটা বেশ লম্বাই ছিল। তালিকায় ছিল নগদ ২০ লক্ষ টাকা, সোনার আংটি, ড্রেসিং টেবিল, আলমারি, খাট-বিছানা, সোনার চেন ও ব্রেসলেট, বাসন, রুপোর থালা এবং হাতঘড়ি। সাধ্যের মধ্যে না থাকলেও পাত্রপক্ষের দাবি মিটিয়েছিলেন ওই মহিলার পরিবার। 

নিগৃহীতার কথায় ‘‘কিন্তু তাতেও খিদে মেটেনি ওদের। আমার বাবার থেকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা আনতে বলে ওরা। তারা আমাকে জানিয়ে দিয়েছিল, টাকা আনতে না পারলে অত্যাচার চলবে।’’ নিগৃহীতার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেননি। পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে ওই মহিলা লিখেছেন, ‘‘মদ খেয়ে আমার স্বামী ও ভাসুরেরা আমাকে মারধর করত। আমার সারা শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিত।’’

নিগৃহীতা আরও বলেন ‘‘আমার ভাসুর আমার শ্লীলতাহানি করেছে। স্বামীকে জানানোর পর ও বলেছিল, ‘বেশ করেছে’। আমাকে খেতে দেওয়া হত দু’টো রুটি এবং এক গ্লাস জল। শীতকালে ভোর ৩টের সময় স্নান করতে বাধ্য করত শ্বশুরবাড়ির লোকজন।’’