প্রায় ২০০ কেজি ঘুঁটে। দু’কেজি কর্পূর এবং আরও এক কেজির মতো ঘি!

নিমতলা ঘাটে শবদাহের জন্য এমনই ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে কলকাতা পুরসভা। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, সোদপুর, ব্যারাকপুর, লিলুয়া থেকে লরিতে করে কেজি কেজি ঘুঁটে আসবে। সেই ঘুঁটেতেই করা হবে শবদাহের কাজ! আর মৃতের পরিবারকে সেক্ষেত্রে দিতে হবে মাত্র ১৮৫০ টাকা।

গত ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে নিমতলা ঘাটে ঘুঁটে দিয়ে শবদাহ পদ্ধতি চালু করেছিল পুরসভা। এবার সেখানেই পাকাপাকিভাবে ওই পদ্ধতি চালু করতে চাইছে পুরসভা। মেয়র পারিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকদিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে। পুর আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুঁটের পাশাপাশি কাঠ ও ইলেকট্রিক চুল্লির ব্যবস্থাও থাকবে। মৃতের পরিবার যেকোনও একটি ব্যবস্থা বেছে নিতে পারেন।

যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পুরসভাকে ওই ঘুঁটে সরবরাহ করবে, সেই সংস্থার কর্ণধার পবন টিব্রেওয়ালা বলেন, ‘‘ঘুঁটেতে শবদাহের ব্যবস্থা পরিবেশবান্ধব। দেশের অন্যত্রও এই ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।’’

পবন জানান, দেহপিছু প্রায় ২০০-২৩০ কেজি ঘুঁটে লাগবে। সে কারণে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ জনের শেষকৃত্য করার জন্য পর্যাপ্ত ঘুঁটে মজুত থাকবে। দাহ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য দু’কেজি কর্পূর, এক কেজি ঘি’রও ব্যবস্থা থাকবে। পরে কেরোসিনও ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এই পদ্ধতির চাহিদা বাড়তে থাকলে অন্য ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান। পবনের কথায়, ‘‘প্রয়োজন বুঝে নিমতলা ঘাটের আশপাশেই গুদাম নিয়ে নেব।’’ 

পুর আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, ঘুঁটেতে শবদাহ করতে যেখানে ১৮৫০ টাকা, সেখানে কাঠে খরচ হয় প্রায় আড়াই হাজার টাকা। এক পুর আধিকারিকের কথায়, ‘‘ঘুঁটের মাধ্যমে শবদাহ করার সময় যে ধোঁয়া বেরোয়, তা ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু কাঠে খুবই দূষণ হয়।’’ 

মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। যাঁরা চাইবেন, শুধুমাত্র তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন।’’