দেশে লোকসভা নির্বাচনের উত্তাপ না এলেও আঁচ লেগেছে সব রাজনৈতিক শিবিরে। বিজেপিকে রুখতে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে জোট তৈরি হয়ে গিয়েছে। দেশের সব বিরোধী দলকে নিয়ে ‘ফেডারেল ফ্রন্ট’ গড়ার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এখনও ধোঁয়াশা রাখলেও আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কোনও জোটেই যাবেন না। এই পরিস্থিতিতে লোকসভা নির্বাচনে কোন শিবিরের দিকে যাবে ভোটের জোয়ার তা নিয়ে জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিল ‘কার্ভি ইনসাইটস’-এই এই সমীক্ষা রিপোর্ট।

শনিবার প্রকাশিত এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে— প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখনও দেশে এক নম্বর পছন্দ নরেন্দ্র মোদী। ৪৯ শতাংশ ভোট তাঁর পক্ষে। অন্য দিকে রাহুল গাঁধী পেয়েছেন ২৭ শতাংশ ভোট। তৃতীয় হলেও অনেকটাই পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনটি পরিস্থিতি বিবেচনা করে করা হয়েছে সমীক্ষা। প্রথম পর্বে ধরে নেওয়া হয়েছে ২০১৪ সালের মতোই যদি জোট-চিত্র থাকে তবে কেমন হতে পারে দেশের ফল। তাতে দেখা গিয়েছে— বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ পাবে ২৮১টি আসন। কংগ্রেসের ইউপিএ পাবে ১২২টি আসন। আর সপা, বসপা, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ অন্যান্যদের দখলে থাকবে ১৪০টি। শতাংশের হিসেবে এনডিএ ৩৬%, ইউপিএ ৩১% এবং অন্যান্যরা ৩৩% ভোট পাবে।

দ্বিতীয় পরিস্থিতি ধরা হয়েছে যেখানে মহাজোট গঠন করবে কংগ্রেস। তাতেও এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও চাপে থাকবে। এনডিএ পেতে পারে ২২৮ আসন (৩৬% ভোট), ইউপিএ পেতে পারে ২২৪ আসন (৪১% ভোট) এবং অন্যান্য ৯১টি আসন (২৩% ভোট)। এক্ষেত্রে মাত্র চারটি আসনে এগিয়ে থাকবে নরেন্দ্র মোদীর এনডিএ। তবে এমন জোট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

তৃতীয় পরিস্থিতি ধরা হয়েছে ইউপিএ সত্যিই একটি মহাজোটের রূপ ধারণ করল। অন্য দিকে, দক্ষিণের দুই দল এআইএডিএমকে এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস চলে গেল এনডিএ-র সঙ্গে। এক্ষেত্রে এনডিএ পেতে পারে ২৫৫টি আসন (৪১% ভোট), ইউপিএ ২৪২টি আসন (৪৩% ভোট) এবং অন্যান্যরা ৪৬টি আসন (১৬% ভোট)।

তিনটি পরিস্থিতির সমীক্ষাতেই দেখা গিয়েছে ক্ষমতায় আসছে মোদীর এনডিএ। তবে আসন্ন তিন রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের জন্য সুখবর শুনিয়েছে সমীক্ষা। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়ের মধ্যে দু’টিতে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতে পারে।

আরও একটি সমীক্ষা চালিয়েছে কার্ভি ইনসাইটস। সেখানে দেখা হয়েছে— নরেন্দ্র মোদীর পরে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে কোন নেতা কতটা সমর্থন পেতে পারেন। সেই তালিকা এই রকম—

রাহুল গাঁধী— ৪৬ শতাংশ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— ৮ শতাংশ
পি চিদাম্বরম— ৬ শতাংশ
প্রিয়ঙ্কা বঢরা— ৬ শতাংশ
অখিলেশ যাদব— ৪ শতাংশ
অরবিন্দ কেজরীবাল— ৪ শতাংশ

সব মিলিয়ে সমীক্ষা বলছে বিজেপি বিরোধী জোট গঠনে তৃণমূল কংগ্রেস যে চাপ তৈরির চেষ্টা করতে চাইছে তা সাফল্যের মুখ নাও দেখতে পারে। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রাজ্যের নেতারা যতই বলুন সমীক্ষায় উঠে এসেছে জাতীয় ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তার পরিসংখ্যান। যাতে অনেক পিছিয়ে তিন নম্বরে মমতা।