আপনার অফিসে কি বিনা পয়সায় ক্যান্টিনে টিফিন পাওয়া যায়? বিনা পয়সায় না হলেও কম দামে খাবার পাওয়া যায় কি? সেটা কি আপনার স্যালারি প্যাকেজের অঙ্গ? তবেই মুশকিল। এই আর্থিক বছরে বদলাতে হবে আপনার সিটিসি। তা না হলে আপনাকে দিতে হবে ক্যান্টিনের খাবারের উপরে জিএসটি।

কেন্দ্রীয় সংস্থা অথরিটি অফ অ্যাডভান্স রুলিং সম্প্রতি যে নির্দেশ দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা যদি কর্মীদের খাবার দেয় এবং সেটাকে বেতনের অংশ হিসেবে ধরে তবে তাতে জিএসটি বসবে। কত হারে জিএসটি তা অবশ্য এখনও নির্ধারিত হয়নি।

কোনও সংস্থায় ২৫০ জনের বেশি কর্মী থাকলে সেখানে ফ্যাক্টরিজ অ্যাক্ট অনুযায়ী ক্যান্টিন থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ক্যান্টিনে খাবার যদি বেতনের অঙ্গ হয় তবে সংস্থা কর্মীদের থেকেই সব্জি, মুদিখানা দ্রব্য, রান্নার খরচ প্রভৃতি আদায় করছে। সেক্ষেত্রে এই ক্যান্টিন সার্ভিসকে ধরা হবে আলাদা ব্যবসা হিসেবে।

জিএসটি জমানার আগে যে নিয়ম ছিল তাতে এই ধরনের পরিষেবা করমুক্ত ছিল। ১৯৪৮ সালের ফ্যাক্টরিজ অ্যাক্টের অধীনে থাকা সংস্থায় কর্মীদের খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করাটা করযোগ্য ছিল না। ক্যান্টিন যদি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হয় তবেও এই পরিষেবা করমুক্ত ছিল।

জিএসটি জমানাতেও কোনও সংস্থা যদি কর্মীদের এই পরিষেবা বিনামূল্যে দেয় তবে তা করযোগ্য নয়। কিন্তু যদি সেই ক্যান্টিন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে চলে তবে অবশ্যই জিএসটি দিতে হবে। যদি সংস্থা খাদ্য, পানীয় দিয়ে কর্মীদের বেতন থেকে টাকা কাটে তবেও সেটা জিএসটি-র আওতায় পড়বে।

অর্থাৎ, যখন ক্যান্টিন পরিষেবা ব্যবসার ভিত্তিতে কোনও সংস্থা চালাবে তখন সেটা জিএসটি-র আওতায় পড়বে। সুতরাং, আপনার সংস্থাকে জিএসটি দিতে হবে। সেক্ষেত্রে সেটা আপনার বেতন থেকে টাকা কাটা হতে পারে আবার আপনার কপাল ভাল হলে করের অংশ সিটিসিতে বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।

তাই ২০১৮-১৯ সালের স্যালারি প্যাকেজ নিয়ে এখনই কথা বলুন আপনার এইচআর-এর সঙ্গে।