শরীরটা ভালো নেই, মনটা উদাসীন। কোন কাজেই যেন উৎসাহ নেই। সবকিছু যেন ফাঁকা ফাঁকা। কেউ আপনাকে বশীকরণ করছে না তো! জ্যৈষ্ঠ মাস মলমাস। এই মাসেই এই সব তান্ত্রিককর্ম করার সঠিক সময়।

স্মার্ত পণ্ডিত রঘুনন্দন তাঁর ‘মলমাসতত্ত্বম’ গ্রন্থে বলেছেন, যদি সূর্য এক রাশিতে অবস্থিত থেকে দু’টি অমাবস্যা তিথিকে অতিক্রম করে তা হলে সেই মাস মলমাস। মলমাসের অর্থ অধিকমাস।

আমরা জানি ১২ মাসে বছর হয় কিন্তু কখনও কখনও ১৩ মাসেও বৎসর হয়। তার মধ্যে প্রথমটি মলমাস, দ্বিতীয়টি শুদ্ধমাস।

চান্দ্রমাসের হিসেবে মলমাস হয়। চান্দ্রমাস দু'প্রকার। মুখ্যচান্দ্র ও গৌণচান্দ্র। শুক্লপক্ষের প্রতিপদ থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত এই ৩০ তিথিতে যে চান্দ্রমাস হয়, তা মুখ্যচান্দ্র আর কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত ৩০ তিথিতে যে মাস হয় তা গৌণচান্দ্র।

দিন ও রাত্রির পরিমাণ দৈনিক ৬০ দণ্ড, তিথির মান কিন্তু গড়ে ৫৮ দণ্ড। সুতরাং, গড়ে ৩০ দিনে ৩১টি তিথি হয়। এ ভাবে বছরে ১২টি তিথি অধিক পাওয়া যায়। আড়াই বছরে ৩০ তিথি বৃদ্ধি হয়। এরকম চললে ৫ বছর পরে দেখা যাবে সৌরমাস ও চান্দ্রমাসের মধ্যে ৬০ দিনের ফারাক রয়েছে। এতে মাসের যে সাধারণ লক্ষণ রয়েছে তা নিতান্ত অসঙ্গত হয়ে পড়ে। তাই ৩০টি তিথি বৃদ্ধি হলেই অমনি মলমাস হবে।

যে বছরে মলমাস হয় তা থেকে তৃতীয় বছরেও পুনরায় মলমাস হয়ে থাকে। মাঘ মাস কদাচিৎ মলমাস হয়, পৌষমাস কখনই মলমাস হয় না।

মলমাসে কিন্তু বিয়ে, পৈতে ইত্যাদি কোনও শুভ কাজ হয় না। হয় নানা রকম অশুভ তান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই মাসে কোনও ভাল কাজ শুরু করাও উচিত নয়। প্রেমজ ক্ষেত্রে প্রস্তাব এলে তা তৎক্ষণাৎ এড়িয়ে যান। 

নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে যে কোনও দেবতার নাম কিংবা গুরুমন্ত্র অথবা গায়ত্রীমন্ত্র স্মরণ করুন।