মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন কলকাতা শহরে আর চলবে না ২০ চাকার গাড়ি। আর এদিন কলকাতা পুলিশ সিদ্ধান্ত নিল শহরের চারটি সেতু দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি আর চলবে না। 

দক্ষিণের বিজন সেতু ও টালিগঞ্জ সেতু এবং উত্তরের অরবিন্দ সেতু ও বেলগাছিয়া সেতু দিয়ে ছোট হোক বা বড়— কোনও ধরনেরই পণ্যবাহী গাড়িকে যেতে দেওয়া হবে না। 

বিজন সেতুর বদলে প্রিন্স আনোয়ার শাহ কানেক্টর দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করবে। টালিগঞ্জ সেতুর বদলে দুর্গাপুর ব্রিজ হয়ে রাসবিহারী হয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলবে। অরবিন্দ সেতু ও বেলগাছিয়া সেতুর গাড়ি মানিকতলা দিয়ে যাতায়াত করবে।

এই সেতুগুলির মেরামতের কাজ শুরু হবে। যতদিন না মেরামতের কাজ শেষ হবে ততদিন এই সেতুগুলি দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি যাবে না। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এদিন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার জানিয়ে দিয়েছেন শহরে আর ২০ চাকার যান ঢুকবে না। তবে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক কলকাতা পুলিশের সঙ্গে ১০৭৩ বা ১০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। তাঁদের ক্ষেত্রে কী করা যায় সেটা পুলিশ সিদ্ধান্ত নেবে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা দেখবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন নগরপাল।

অন্যদিকে, মাঝেরহাট ব্রিজ নতুন করে তৈরি হবে নাকি ভাঙা অংশ জোড়া লাগানো হবে, তা ঠিক করে কাজ শেষ কবে হবে তা বোঝা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার রেলের কাছে প্রস্তাব দিচ্ছে, মাঝেরহাট ও নিউ আলিপুর স্টেশনের মাঝে যেখানে ১০/২৬ স্টেশন পোস্টের কাছে একটি রাস্তা বের করার চেষ্টা চলছে। লেভেল ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করে সেখান দিয়ে অস্থায়ী ভাবে রাস্তা ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার। 

এই পরিকল্পনা সফল হলে মাঝেরহাট ব্রিজ ব্যবহার করত যেসব গাড়ি, তারা আবার এই রাস্তা ব্যবহার করে সহজে বেহালার দিক থেকে একবালপুরের দিকে যেতে পারবে। 

আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টও ২ কোটি টাকা ব্যয়ে হাইড রোড সংস্কারের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কারণ মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর গাড়িগুলিকে এখন হাইড রোড দিয়ে পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার জানিয়েছেন গার্ডেনরিচ সেতু ব্যবহার করার জন্যও যানচালকদের বলা হচ্ছে। এর ফলে মাঝেরহাটের বিকল্প একটি পথ তৈরি হবে।