২৭ মে, ২০১৮। হাওড়া ব্রিজের উপর থেকে নিজের শিশুপুত্রকে নিয়ে ঝাঁপ দেন এক গৃহবধূ। বরাতজোরে তিনি প্রাণে বাঁচলেও মৃত্যু হয় ওই শিশুটির।

জুন মাসের শুরুতেও মাধ্যমিক অনুত্তীর্ণ এক কিশোরী হাওড়া ব্রিজের রেলিং টপকে গঙ্গায় ঝাঁপ দিতে যায়। এক পুলিশকর্মী তাকে নিরস্ত করেন।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

সেতু নিয়ে যখন চারদিকে আতঙ্ক, তখন হাওড়া ব্রিজ নিয়ে অন্য মাথাব্যথা পুলিশের। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বিশেষজ্ঞরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু পুলিশের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে হাওড়া সেতু থেকে মরণঝাঁপ। কারণ আত্মহত্যাপ্রবণ অনেকেই নিজেকে শেষ করার জন্য হাওড়া ব্রিজকেই বেছে নিচ্ছেন। সেতুর ফুটপাতের ধারের কোমর সমান উচ্চতার রেলিং টপকে তাঁরা ঝাঁপ দেন গঙ্গায়।

বর্তমানে এমনই রেলিং রয়েছে হাওড়া ব্রিজে। নিজস্ব চিত্র

বিষয়টি নিয়ে হাওড়া ব্রিজ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টকে একটি প্রস্তাব দেয় কলকাতা পুলিশ। প্রস্তাবে ব্রিজের ধারের রেলিংয়ের উচ্চতা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।

কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের পক্ষ থেকে পুলিশের এই প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, বর্তমানে সেতুর ধারের রেলিংয়ের যে উচ্চতা রয়েছে, তা বাড়িয়ে দ্বিগুণ উচ্চতার করা হবে। ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়েছে। পোর্ট ট্রাস্টের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয়কুমার ঘোষ জানান, ‘‘পুলিশের প্রস্তাব মেনেই এই কাজ করা হচ্ছে। তবে রেলিংয়ের উচ্চতা বাড়ালেও সেতুর ঐতিহ্যবাহী চেহারায় যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, তার উপর নজর রাখা হচ্ছে।’’

পোর্ট ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে, এই কাজে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ হবে। আগামী দু’মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।