একচিলতে রাস্তায় সারি সারি কেক-বিপণি। ভিতরে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। ক্রিসমাসের আগে ব্যস্ততার অন্ত নেই তালতলার ‘ছোট’ বেকারিগুলির!

তালতলা এলাকায় গোটা দশেক ছোট বেকারি রয়েছে। এদের কারও ‘নাহুম’ বা ‘সালদানহা’র কৌলীন্য হয়তো নেই, কিন্তু প্রায় প্রতিটিরই বয়স অর্ধশতকের বেশি। কারিগরদের অধিকাংশই মুসলিম। এই বেকারিগুলিতে তৈরি কেক কার্যত পাওয়াই যায় না। ক্রেতারাই ময়দা, ডিম, মাখন, চিনি-সহ কেক তৈরির বিবিধ উপকরণ কিনে দিয়ে যান। সেসব দিয়ে কেক তৈরি করে তার উপরে ক্রেতার নাম-ঠিকানা লিখে রেখে দেওয়া হয়। ক্রেতারা কয়েক ঘণ্টা পরে এসে বেকারির ‘মজুরি’ দিয়ে গরম কেক নিয়ে যান। 

১৯৫০’এর দশকের শুরুতে ওই এলাকায় এভাবে কেক তৈরির প্রথম বেকারি তৈরি করেছিলেন হাজি শেখ আবদুল সামাদ। এখন সেই বেকারি সামলান তাঁর ছেলে শেখ নুরুদ্দিন। তিনি জানান, বড় বেকারিগুলির মতো বছরভর কেক তৈরি করেন না তাঁরা। ডিসেম্বরের শুরু থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কেক বানানো হয়। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা শুধু মজুরিটুকু নিই। প্রয়োজনীয় যাবতীয় সামগ্রী ক্রেতারাই কিনে দিয়ে যান। নিজেরাও অল্প কিছু কেক বানাই, কিন্তু তার বাজার কম।’’ শনিবার পার্ক সার্কাস থেকে তালতলায় কেক তৈরির বরাত দিতে এসেছিলেন মহম্মদ রইসুদ্দিন। তাঁর কথায়, ‘‘১৯৬৫ সাল থেকে এখানে আসি। আমরা যারা আর্থিকভাবে খুব স্বচ্ছল নই, তাদের ক্রিসমাসের কেকের জন্য তালতলাই আদর্শ।’’