তাঁকে ছাড়াই কোপা আমেরিকায় প্রথম ম্যাচে জিতল আর্জেন্তিনা। এভের বানেগা এবং অ্যাঙ্খেল দি’মারিয়ার গোলে শক্তিশালী চিলেকে ২-১ হারিয়ে দিল তারা। চোটের জন্য সেই ম্যাচ রিজার্ভ বেঞ্চে বসেই দেখলেন লিওনেল মেসি। 
আর্জেন্তিনা কোচ জেরার্দো মার্তিনো অবশ্য ম্যাচের পরে জানিয়েছেন, শুক্রবার পানামার বিরুদ্ধে পরের ম্যাচেই মেসিকে ফিরে পাওয়ার আশা করছেন। গত মাসে হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে পিঠে ও পাঁজরে চোট পান মেসি। সেই চোট পুরোপুরি না সারায় তিনি প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি। ‘‘লিও ফিটনেস ট্রেনিং করে যাচ্ছে। ও এখন অনেক ভালভাবে বল কিক করতে পারছে,’’ চিলেকে হারিয়ে উঠে বলেছেন মার্তিনো। পরের ম্যাচের মধ্যে চারদিন সময় আছে বলে আর্জেন্তিনা কোচ আরও আশাবাদী মেসিকে পাওয়ার ব্যাপারে। 
মেসির জায়গায় বেনফিকার নিকোলাস গাইতান নেমে ভালই খেলেছেন। তা বলে মেসির অভাব তিনি ঢেকে দিয়েছেন, এমন দাবি কেউ করছেন না। মার্তিনোও বলে ফেলেছেন, ‘‘মেসি খেললে আমরা সব সময়ই অনেক ভাল টিম। অনেক ভাল ফুটবল খেলি আমরা। মেসি খেললে আমাদের কোপা জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।’’ 
যাঁর মাঠে ফেরার অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব, সেই মেসি প্রায় ৬০,০০০ পাউন্ড জিতলেন মামলায়! জার্মানির কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্তিনার হারের পর মাদ্রিদের এক সাংবাদিক মেসির সমালোচনা করে তাঁর শরীরে ছোটবেলায় হরমোনের অভাব নিয়ে কটাক্ষ করেন। রোজারিও থেকে ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন মেসি। তাঁর চুক্তিতে অন্যতম শর্ত ছিল, হরমোনের অভাবজনিত রোগের পুরো খরচা বার্সেলোনাকে নিতে হবে। সেই সমস্ত তথ্য তুলে ধরে লেখাটিতে কটাক্ষ করা হয়েছিল মেসিকে।   
ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ করে মেসি আদালতে মামলা করেন। মঙ্গলবার সেই রায় বেরিয়েছে এবং তা মেসির পক্ষেই গিয়েছে। বিচারকেরা বলেন, সংবাদপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের মন্তব্য অপ্রয়োজনীয় এবং অধিকারের সীমা লঙ্ঘণ করেছে। মামলায় জেতা অর্থ চ্যারিটিতে দান করে দেন মেসি। 

দি মারিয়ার শ্রদ্ধাঞ্জলি
দিদিমা মারা যাওয়ার পরেও আর্জেন্তিনার হয়ে নেমে গোল করলেন অ্যাঙ্খেল দি মারিয়া। কার্যত মেসির অনুপস্থিতির দিন তিনিই রক্ষাকর্তা দলের। পরে দি মারিয়া বলছেন, ‘‘আমি খেলছি না শুনলে দিদিমা খুব রেগে যেতেন। তাই আমি খেলার সিদ্ধান্ত নিই। আমার বাড়ির অন্যান্যরাও আমাকে বলে ম্যাচটা খেলতে।’’ গোল করার পরে দি মারিয়া একটি শার্ট তুলে ধরেন। তাতে লেখা ‘গ্র্যান্ডমা, আই উইল মিস ইউ সো মাচ’। ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিতে এসে কেঁদে ফেলে দি মারিয়া বলেন, ‘‘এরকম কিছু ঘটলে দূরে থাকা খুব কঠিন। আমার মা আমাকে ম্যাচটা খেলার জন্য এখানে থাকতে বলেছিল।’’ 

জাতীয় সঙ্গীত বিতর্ক
আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে চিলের ফুটবলাররা শুনলেন, তাঁদের জাতীয় সঙ্গীতই ভুল বাজানো হল। চিলের জাতীয় সঙ্গীতের মাঝে চালিয়ে দেওয়া হয় পিটবুলের গান।