শস্য ঘরে তোলার উৎসবের সময় রজোবতী ভূমি আর নবজাতকের প্রত্যাশা একাকার হয়ে যায় কৃষিজীবী সমাজে। ভাদ্র মাসের গণেশ পুজো আসলে এই রজোবতী ভূমিকে পরিচর্যা করে সন্তান অর্থাৎ ফসলের জন্ম দেওয়ার আরাধনা। গণেশের বিসর্জন এবং গৌরীর আবাহনের মধ্যেই দেবীকে গণপতির শক্তিরূপে কল্পনা করা হয়েছে ভারতীয় পুরাণগুলিতে।

গণেশ কিন্তু চিরকুমার হিসেবে পরিচিত হতে চেয়েছিলেন। দক্ষিণ ভারতে শিবতনয় গণেশ কিন্তু একেবারেই ব্রহ্মচারী। মহারাষ্ট্রে উত্তর দক্ষিণের দ্বারপ্রান্তে এসে গণেশের বিবাহ হয়েছে বলেই জনমানসের ধারণা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

গনেশের বহু সঙ্গিনী। সংশ্লিষ্ট নারীদের মর্যাদা অনুসারে প্রথমে পত্নী, দ্বিতীয় শক্তি এবং তৃতীয় দাসী— গণেশ যাদের মালিক। প্রাচীন মূর্তিশাস্ত্রে যাঁদের বলা হয়েছে ‘বিনায়কী’ এবং ‘গণেশানী’। এঁরা মূলত হস্তিমুখ দেবী। 

ষোড়শ শতাব্দীর গ্রন্থ ‘শিল্পরত্ন’তে শ্রীকুমার এই দেবীদের যে বর্ণনা করেছেন তা হল— দেবীদের শরীর স্তনের ভারে কিছুটা নত এবং নিতম্বদেশ ভারী। আসলে দেবতা গণেশ প্রথমে ছিলেন বিঘ্নেশ্বর। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে অবলোকিতেশ্বরের সান্নিধ্যে এসে হয়ে গেলেন চরম কামাচারী। অবলোকিতেশ্বর মহিলা বিনায়কের বেশে বিঘ্নকারী বিনায়ককে শুভ কর্মপথে আনার চেষ্টা করে শারীরিক মিলনে আবদ্ধ হন। এই যে ‘নীর ক্ষীর ন্যায়’ আলিঙ্গন তিব্বতী, বৌদ্ধ ধর্মে যাকে বলা হয় ‘ইয়ব ইয়ুম’ (Yab-Yum) অর্থাৎ পতিপত্নী দৈহিক সম্পর্ক। 

গণেশের এই রতিলীলা প্রসঙ্গ মূর্ত হয়েছে তান্ত্রিক গণপতি প্রতিমা পরিকল্পনায়। বামাচারী তান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গণেশ ও গণেশানীর যৌন ক্রীড়ারত বহু মূর্তি রয়েছে। এই রকম যৌন ক্রীড়ারত একটি মূর্তির নাম ‘উচ্ছিষ্ট গণপতি’। এই গণেশ কামোন্মত্ত অবস্থায় তাঁর শক্তিকে কোলে বসিয়ে শুঁড় দিয়ে যোনি আস্বাদন করছেন।

অভিনব গুপ্তের ‘তন্ত্রসার’ গ্রন্থে মহাগণেশের ধ্যানে রয়েছে— মদমত্ত হস্তীমুখ গণপতি দেবীর যোনিতে একটি হাত রেখেছেন, ক্রোড়স্থিতা দেবীও দেবতার ধ্বজাগ্রে স্পর্শ করেছেন। ‘উত্তর কামিকাগম তন্ত্র’ গ্রন্থে গণেশের রতিলীলারত বহু ধ্যান রয়েছে।

বাৎসায়ণের কামশাস্ত্রে বলা হয়েছে, গণেশ কামশাস্ত্রের ৬৪ কলাবিদ্যা রপ্ত করেছিলেন। তিনি কামশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।

Copyright © 2018 Ebela.in - All rights reserved